বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) টেকসই বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা আয়োজন করেছে। সভায় দলগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি দেশি বিনিয়োগকারীদের গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভার মূল বিষয়বস্তু
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডার প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় ১৭টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন। সভায় আশিক চৌধুরী বলেন, “বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান জাতীয় স্বার্থের অংশ। এটি দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে।”
তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য বিডা কাজ করে যাচ্ছে।
বিডার কার্যক্রম ও চ্যালেঞ্জ
বিডার হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট নাহিয়ান রহমান রচি প্রেজেন্টেশনে বিনিয়োগের পাঁচটি প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করেন:
- সরকারি পরিষেবার মান
- নীতির ধারাবাহিকতা
- শিল্পখাতের পরামর্শ
- দুর্নীতি দূরীকরণ
- সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার
তিনি জানান, বিডা ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত
সভায় অংশ নেওয়া দলগুলো বিডার সংস্কার পরিকল্পনা ও অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তারা উল্লেখ করেন:
- দক্ষ শ্রমিক তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
- অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আইনি জটিলতা দূর করতে হবে।
- শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
- বিনিয়োগ নীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
অন্য প্রস্তাবনা ও আলোচনা
- কমিউনিস্ট পার্টি: বিনিয়োগ পরিবেশ রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
- এনসিপি: “একটি ফাইন্যান্সিয়াল সনদ” তৈরি করে বিনিয়োগ নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
বিডার প্রতিশ্রুতি
সমাপনী বক্তব্যে আশিক চৌধুরী বলেন, “জাতীয় স্বার্থের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বমানের করতে কাজ চলছে, তবে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সবার আগে।”
তিনি আরও বলেন, নিয়মিতভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ ধরনের আলোচনা চালু থাকবে।






















































