সম্প্রতি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে কার্গো ফ্লাইট চালুর ঘোষণাটি ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়ার এই পদক্ষেপ শুধু স্থানীয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। বন্দরনগরীর ভূ-অবস্থান ও সমৃদ্ধ অবকাঠামো এই এলাকাকে দেশের প্রধান রপ্তানি-আমদানি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে শাহ আমানত বিমানবন্দরে কার্গো ফ্লাইট চালু হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতারাও উপকৃত হবেন। পচনশীল পণ্য, ঔষধ, ইলেকট্রনিক্সসহ অন্যান্য উচ্চমূল্যমান পণ্য দ্রুত পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। এটি শুধু রপ্তানিকারকদেরই নয়, আমদানিকারকদেরও খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনাল ও ওয়ারহাউসের বর্তমান অবস্থা উন্নত করতে হবে। অচল কোল্ড স্টোরেজ মেরামত, রিসিভ এরিয়ার সম্প্রসারণ এবং নতুন স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া নিরাপত্তা ও অপারেশনাল কার্যক্রমে সুনির্দিষ্ট মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে হবে।
একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত ডেলিভারি ও কার্যকর সরবরাহ শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিমানবন্দর ভিত্তিক কার্গো ফ্লাইটের গুরুত্ব অপরিসীম। শাহ আমানত বিমানবন্দরের এই উদ্যোগ ট্রান্সশিপমেন্টের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করবে এবং স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
আমাদের প্রত্যাশা, সরকার এবং বেসরকারি অংশীদাররা একসঙ্গে কাজ করে এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। শাহ আমানত বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি একটি বড় মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে।




















































