বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শালীনতা, আত্মত্যাগ, সেবাবোধ ও দায়িত্বশীলতা। এই মূল্যবোধ শুধু পরিবারের ভেতরে নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। আমাদের জাতির ইতিহাসে এমন একটি পরিবার রয়েছে, যারা এই মূল্যবোধকে শুধু ধারণই করেনি, বরং একে জাতির সামনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে—জিয়া পরিবার।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সৎ, নির্ভীক এবং দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রনায়ক। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রারম্ভিক ধাপেই উচ্চারিত হয়েছিল ‘আমি মেজর জিয়া বলছি, আমি বাংলাদেশের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করছি’—এই ঘোষণা একটি নতুন জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি নির্মাণ করেছিল।
কেবল রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, পারিবারিক দৃষ্টিকোণ থেকেও জিয়া পরিবার ছিল এক শৃঙ্খলাবদ্ধ, সজ্জন ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবার। খালেদা জিয়া, যিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও বাধা পেরিয়ে শান্তিপূর্ণ ও দৃঢ় মনোভাবে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তাদের সন্তানরা কখনোই বেহিসেবি ক্ষমতা বা প্রভাব বিস্তার করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেনি, বরং রাজনীতি কিংবা ব্যক্তিজীবনে অনেক বেশি পরিমিত ও সংযত থেকেছে।
বর্তমান সময়ে যখন রাজনীতি অনেকটাই পারিবারিক দখলদারিত্ব, বিলাসিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতীকে পরিণত হয়েছে, তখন জিয়া পরিবার এক অনন্য ব্যতিক্রম। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনা—যা দল-মতের উর্দ্ধে উঠে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মনির্ভর জাতি গঠনের দর্শন বহন করে—তা কেবল মুখের কথা নয়, বরং জিয়া পরিবার তা কার্যত বাস্তবায়ন করেছে।
জাতীয়তাবাদ শুধু স্লোগানে নয়, বরং আদর্শে, চর্চায় ও নীতিতে প্রতিফলিত হতে হয়। এ মূল্যবোধকে ধারণ করেই জিয়া পরিবার দেশের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। সময় এসেছে, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য এই পারিবারিক শুদ্ধতা ও আদর্শিক জাতীয়তাবাদকে আবার সামনে নিয়ে আসার।




















































