ভ্যাট বৃদ্ধির পরিকল্পনায় এনবিআর: গরমে বাড়বে এসি-ফ্রিজের দাম

0
264

মাত্র ছয় মাস আগেই ফ্রিজ ও এয়ার-কন্ডিশনার প্রস্তুতকারকদের কর দ্বিগুণ করার পর, এবার এসব পণ্যে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর ফলে প্রচণ্ড গরমের এই সময়ে ভোক্তাদের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে, বিশেষত যখন অর্থনীতিও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

বর্তমানে উৎপাদন পর্যায়ে ফ্রিজ ও এসি-তে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে, যা ১৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। একইভাবে, মোবাইল ফোন উৎপাদনে ৫ ও ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট বেড়ে যথাক্রমে ৭.৫ ও ১০ শতাংশ হতে পারে। ব্যাটারির ক্ষেত্রেও ভ্যাট ৭.৫ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রয়েছে।

ভ্যাট বৃদ্ধির কারণ ও প্রেক্ষাপট

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রস্তাব আগামী মাসে অর্থ উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে তা কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর চাপেই সরকার কর অব্যাহতি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

একজন এনবিআর কর্মকর্তা বলেন, “রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার ও এসি উৎপাদনে হ্রাসকৃত ভ্যাট সুবিধার মেয়াদ জুনে শেষ হচ্ছে। এটি আর না বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”

২০০৯ সাল থেকে দেশীয় শিল্প বিকাশে কর ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হলেও এখন এ খাতগুলো স্বাবলম্বী বলে মন্তব্য করেছেন কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

শিল্প খাতের প্রতিক্রিয়া

ফেয়ার গ্রুপের চিফ মার্কেটিং অফিসার মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, ভ্যাট বৃদ্ধি হলে পণ্যের বিক্রি আরও কমে যেতে পারে। বর্তমানে উৎপাদন পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে এবং ভোক্তা পর্যায়ে আরও ৫ শতাংশ। এটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করলে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাটের বোঝা চাপবে।

ইলেকট্রো মার্টের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আফসার জানিয়েছেন, ভ্যাট বৃদ্ধি হলে গ্রি ব্র্যান্ডের এক টনের এসি প্রতি ইউনিটে ভোক্তাদের ৩ হাজার টাকা বেশি গুনতে হবে।

বর্তমান বাজারের চিত্র

এক সময় বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচিত ফ্রিজ এখন প্রয়োজনীয় গৃহস্থালী সামগ্রী। দেশের ফ্রিজ বাজারের বার্ষিক আকার প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা এবং বছরে ৩৩–৩৫ লাখ ইউনিট বিক্রি হয়। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন, যমুনা ইলেকট্রনিক্স, ভিশন ইলেকট্রনিক্স এবং সিঙ্গার বাংলাদেশ বাজারে আধিপত্য করছে।

এসি বাজারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ১৪ শতাংশ। তবে অর্থনৈতিক মন্থর গতি ও তুলনামূলক কম গরমের কারণে বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে।

ভোক্তা ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব

ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে ফ্রিজ ও এসি-র দাম বাড়লে ভোক্তাদের জন্য তা চ্যালেঞ্জিং হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধীরে ধীরে কর বৃদ্ধি করা হলে ভোক্তারা মানিয়ে নিতে পারত এবং শিল্প খাতও কম ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

Previous articleস্বাধীনতার পর প্রথমবার সবাই মিলে রাষ্ট্র বিনির্মাণের সুযোগ: আলী রীয়াজ
Next articleবাজার মনিটরিং: দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার আশ্বাস বাণিজ্য সচিবের

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here