দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ কত দরে ডলার কেনাবেচা করতে পারবে, সে বিষয়ে মৌখিকভাবে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে । কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনায় রেমিট্যান্সের ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১২২.৯০ টাকার মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার বিক্রির সর্বোচ্চ দর ১২২.৭০ টাকা নির্ধারণ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে রেমিট্যান্স কেনার ক্ষেত্রেও ১২২.৯০ টাকার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকগুলোকে তাদের বিলস ক্লিন (বিসি) রেট কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার বিক্রির দর ছিল ১২৩.২৫ থেকে ১২৩.৫০ টাকার মধ্যে।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংক বেশি দামে রেমিট্যান্স ডলার কেনায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহে ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্যাংকারদের মতে, বর্তমানে বাজারে ডলারের সরবরাহ ভালো রয়েছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহও শক্তিশালী। ফলে নতুন করে দাম বাড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং অতীতের অস্থিরতার কারণে ব্যাংকগুলো এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তবে কিছু ব্যাংকার মনে করছেন, আগে বেশি দামে ডলার কেনা ব্যাংকগুলো কম দামে আন্তঃব্যাংক বাজারে বিক্রি করতে অনাগ্রহী হতে পারে। এতে বাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবেও ডলার বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী আগাম ডলার বুকিং (ফরওয়ার্ড বুকিং) বাড়িয়েছেন। এতে স্পট মার্কেটে ডলারের চাহিদা কিছুটা কমেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত ফরওয়ার্ড বুকিং নিরুৎসাহিত করছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ডলারের দর একটি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ‘মৌখিক হস্তক্ষেপ’ করা হয়েছে।























































