জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেই অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে তারা রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। একইসঙ্গে ঘোষণা দেন, সেনাশাসন বা সেনা-সমর্থিত শাসন তারা মেনে নেবেন না।
তার অভিযোগ, আন্দোলনের সময় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়, এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সে সময়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ী করেন।
নাহিদ আরও জানান, ৪ আগস্ট শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচির পর সরকার কারফিউ দিয়ে দমন-পীড়ন শুরু করে। হত্যাকাণ্ড ও গুমের আশঙ্কায় তারা একদিন এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। সেই সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি ড. ইউনূসকে সরকারপ্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক পডকাস্টে ড. ইউনূসও জানিয়েছেন, তিনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ছাত্রনেতাদের কাছ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার আহ্বান পান।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর ৮ আগস্ট দেশে ফেরেন ড. ইউনূস এবং তার নেতৃত্বেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।























































