বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরী মালিক ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

0
119

দেশের জ্বালানী তেল ব্যবসায়ী এবং ট্যাংকলরী মালিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েক বছর যাবৎ আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে দেন দরবার ও আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে ব্যার্থ হয়ে আমাদের দাবী আদায়ে আমাদেরকে কয়েকবার ধর্মঘট কর্মসূচীও ঘোষণা করতে হয়েছিল। যতবারই আমরা আমাদের সমস্যা সমাধানে যৌক্তিক দাবী আদায়ের উদ্দেশ্যে আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করেছি, ততবারই সরকারের হস্তক্ষেপ এবং দাবী পুরণে লিখিত আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি পাবার প্রেক্ষিতে কর্মসূচী স্থগিত রেখে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হলেও সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয় নাই। তারপরও আমরা নিজেরা ক্ষতিগ্রন্থ হয়ে সরকারকে সর্বোত সহযোগিতা করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ভোক্তাদের তেল সরবরাহ করে আসছি বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাজমুল হক

শনিবার ১১ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি শফিকুল আলম মিলনায়তনে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরী মালিক ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তিনি এই কথা বলেন।

মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন,অত্যন্ত দুঃখ এবং হতাশার সাথে বলতে হচ্ছে যে, বিগত কয়েক বছরে দেশের চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ীসহ সকল পেশাজীবি মানুষের বেতন ভাতা বা আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু আমরা পেট্রোল পাম্প মালিকদের ব্যবসা করতে গিয়ে বিনিয়োগের পরিমান অনেক বৃদ্ধি পেলেও আমাদের কমিশন বা মুনাফার যৌক্তিক এবং বাস্তবতার নীরিখে বৃদ্ধি করা হয়নি। অথচ সমগ্র দেশে আমরাই একমাত্র ব্যবসায়ী, যারা গ্রামে গঞ্জে, হাটে বাজারে ও শহরে বন্দরে সরকার নির্ধারিত কমিশন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে জনগণের কাছে জ্বালানী পণ্য পৌঁছে দিচ্ছি।

তিনি বলেন,আমাদের প্রাপ্ত কমিশনের পুরোটাই আমাদের মুনাফা নয়। উক্ত কমিশনের মধ্যেই ইভাপোরেশন, অপারেশন এবং হ্যান্ডলিং লস্ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ প্রাপ্ত কমিশন থেকে ইভাপোরেশন, অপারেশন এবং হ্যান্ডলিং লস্ বাদ দিয়ে যেটা থাকে, সেটা হতে কর্মচারী বেতন, বিদ্যুৎ বিল, বিভিন্ন লাইসেন্স ফিস, ইনকাম ট্যাক্স, ষ্টেশনারি সহ বিভিন্ন খরচ বহন করার পর যেটা থাকে, সেটাই আমাদের নীট মুনাফা। আরও উল্লেখযোগ্য যে, বিগত বছরগুলিতে বিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন লাইসেন্স ফি কয়েকগুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। কর্মচারী বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফিস প্রায় কয়েক গুন করা হয়েছে। অথচ আমাদের কমিশনের হার বৃদ্ধি তো দূরের কথা, কমিশনের হার আরও কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন,২০২৩ সালে আমরা কমিশন বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন দাবী আদায়ে কর্মসূচী দিলে সরকার তেল বিক্রির কমিশন পুনঃনির্ধারণের নিমিত্তে সুপারিশ বা ফর্মুলা প্রণয়নের জন্য বিপিসির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। উক্ত কমিটি আমাদের আপত্তি সত্ত্বেও পেট্রোল পাম্প পরিচালনায় বিভিন্ন খরচ এবং ফিস পর্যালোচনা পূর্বক (যাহা বাস্তব বিবর্জিত) কমিশনের হার সরকার বরাবরে প্রস্তাবনা করে। যাহা নিম্নরূপ ছিল: পেট্রোল, অকটেন ডিপো মূল্যের ৫% এবং ডিজেল ৩%, কিন্তু জ্বালানী মন্ত্রণালয় বিপিসির সুপারিশ বা প্রস্তাবনা বিবেচনায় না নিয়ে মনগড়া এবং একতরফা ভাবে কমিশনের হার কমিয়ে ২৬-০৯-২০২৩ ইং তারিখ গেজেট প্রকাশ করে। আমরা সাথে সাথে উহা প্রত্যাখ্যান করে মন্ত্রণালয় সহ বিপিসিতে উহার প্রতিবাদ করি। কমিশন নির্ধারণে উল্লেখিত প্রস্তাবিত ফর্মুলা বা সুপারিশের বিষয়ে আপনাদের নিকট কিছু তথ্য তুলে ধরতে চাই। বিপিসির ঐ বাস্তব বিবর্জিত ফরমুলায়ঃ- একটি পেট্রোল পাম্পের মাসিক বিদ্যুৎ বিল ধরা হয়েছে ৩,৪০০/-টাকা। আপনারাই বলুন যেখানে একটি ছোট বাসায় যেখানে কোন মটর, এয়ার কন্ডিশন চলে না, সেখানেওতো মাসিক বিদ্যুৎ বিল এর চেয়ে বেশী। অথচ বিপিসি একটি পেট্রোল পাম্বের বিদ্যুৎ খরচ ৩,৪০০/- দেখিয়ে কমিশন নির্ধারণের ফরমুলা তৈরী করেছেন। তাদের প্রণীত সুপারিশমালা তৈরীতে কতটা বাস্তব বহির্ভুত ভাবে ফর্মুলা ব্যবহার করা হয়েছে, তা সহজেই বোধগম্য। এভাবে তারা প্রতিটি খরচ ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক কম দেখিয়ে ফর্মুলা তৈরি করেছেন।

তিনি বলেন,যেখানে আমাদের দাবী ছিল তেল বিক্রির কমিশন ৭% করা। সেখানে জ্বালানী মন্ত্রণালয় তাদের দ্বারাই গঠিত কমিটির এই অবাস্তব ফর্মুলার সুপারিশ বাদ দিয়ে কমিশনের হার আরও কমিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছেন। উক্ত গেজেটের ফলে আমাদের কমিশনের হার আগের তুলনায় আরও কমে যায়। আমাদের কমিশনের হার কমিয়ে দেয়ার ফলে বর্তমানে আমাদের প্রাপ্ত কমিশনের চিত্র নিম্নরূপঃবর্তমানে অকটেনের আমাদের ক্রয় মূল্য ১১৯.০২ প্রতি লিটার। বিপিসির প্রস্তাবিত হার ডিপো মূল্যের ৫% অর্থাৎ কমিশন হওয়ার কথা ৫.৯৫ প্রতি লিটারে। কিন্তু আমরা পাচ্ছি ৫.০৯, অর্থাৎ বিপিসির প্রস্তাবনার চেয়েও বর্তমানে প্রতি লিটারে আমাদের কমিশন ০.৮৬ টাকা কম দেয়া হচ্ছে।ডিজেলের ডিপো মূল্য ১০০.২৫ প্রতি লিটার। বিপিসির প্রস্তাবনা অনুযায়ী কমিশন দাড়ায় ৩% অর্থাৎ ৩.০০৭৫ টাকা। কিন্তু আমরা পাচ্ছি ২.৮৬ টাকা। অর্থাৎ বিপিসির সুপারিশ বা প্রস্তাবনার চেয়েও প্রতি লিটার ডিজেলে আমাদের কমিশন প্রায় ০.১৫ টাকা কম দেয়া হচ্ছে।

এমতাবস্থায়, সম্পূর্ণ নিরুপায় হয়ে আমরা আমাদের জ্বালানী তেলের ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার মনস্থির করেছি। তবে, শেষ চেষ্টা হিসেবে ১০-০৫-২০২৫ তারিখ সমগ্র দেশের তেল ব্যবসায়ী এবং এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা সরকার বরাবরে আগামী ১২ দিন অর্থাৎ ২৪-০৫-২০২৫ ইং তারিখের মধ্যে আমাদের দাবী পূরণের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। অন্যথায় ২৫-০৫-২০২৫ ইং তারিখ প্রতীকি কর্মসূচি হিসেবে ভোর ৬ টা থেকে দুপুর ২ ঘটিকা পর্যন্ত সমগ্র দেশের সকল পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরী কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে জ্বালানী তেলের উত্তোলন, পরিবহন এবং বিপনন বন্ধ থাকবে। তবে হজ্ব ফ্লাইট এবং আন্তর্জাতিক ফ্ল্যাইট সচল রখার জন্য বিমানের তেল পরিবহন চালু থাকবে। সে সাথে জ্বালানী তেলের ভোক্তা সাধারণকে কর্মসূচি শুরুর আগইে চাহিদা মাফিক তেল সংগ্রহ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাজমুল হক, উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল, মিজানুর রহমান রতন, জুবায়ের আহম্মেদ চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Previous articleভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত: ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ‘পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক’ চুক্তি
Next articleসংস্কার কমিশন নারী ও পুরুষকে প্রতিপক্ষ ও প্রতিদন্দী হিসেবে দাড় করিয়েছেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here