অনুষ্ঠান ছেড়ে যাওয়া সেই ফাতিমাই ‘মিস ইউনিভার্স’

0
157

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংককে জমজমাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা। নানা বিতর্ক, কেলেঙ্কারি ও নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত মুকুট উঠেছে মেক্সিকোর ফাতিমা বশের মাথায়। নভেম্বরের শুরুতেই আয়োজকদের আচরণের প্রতিবাদে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া এই প্রতিযোগীর বিজয়কে ঘিরে বিশ্বজুড়ে চলছে আলোচনা।

প্রশ্ন: যোগ্যতা, নাকি ক্ষতিপূরণ?

ফাতিমার জয় ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। অনেকে তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করছেন। মেক্সিকোর জনগণও উচ্ছ্বসিত। তবে একটি অংশ প্রশ্ন তুলছে—আগের অপমানের ক্ষতিপূরণ দিতেই কি আয়োজকরা তাঁকে বিজয়ী করেছেন?

প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রবীনা সিং, দ্বিতীয় রানার আপ ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আব্বাসলি। এরপর আছেন ফিলিপাইন ও আইভরি কোস্টের প্রতিযোগীরা।

শুরু থেকে বিতর্ক

প্রতিযোগিতার একটি প্রাক-অনুষ্ঠানে নাওয়াত ইটসারাগ্রাসিল নামের আয়োজকদলের একজন সদস্য সবার সামনে ফাতিমাকে বকাঝকা করেন। অভিযোগ—তিনি প্রচারণামূলক পোস্ট দেননি। প্রতিবাদ করলে নাওয়াত নিরাপত্তারক্ষী ডাকেন এবং হুমকি দেন, যাঁরা ফাতিমাকে সমর্থন করবেন, তাঁদেরও বাদ দেওয়া হবে। এ ঘটনার পর ফাতিমা অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আরও কয়েকজন প্রতিযোগীও বেরিয়ে আসেন।

ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম সেই সময় বলেন, “নারীদের অন্যায়ের প্রতিবাদ অবশ্যই করা উচিত।”

শুক্রবারের ফাইনালে নাওয়াতকে দেখা যায়নি। ফাতিমার বিজয়ের পর তিনি শুধু লিখেছেন— “একশ কোটি কথা, যা বলা সম্ভব নয়।”

বিচারকদের পদত্যাগ ও কারচুপির অভিযোগ

ফাতিমার ঘটনার এক সপ্তাহ পর দুজন বিচারক পদত্যাগ করেন। তাঁদের একজন লেবানিজ–ফরাসি সঙ্গীতজ্ঞ ওমর হারফাউচ অভিযোগ করেন—একটি অঘোষিত জুরি বোর্ড আগেই বিজয়ীদের ঠিক করে রেখেছিল। এ ছাড়া ফরাসি ফুটবল তারকা ক্লদ মাকেলেলে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে সরে দাঁড়ান। তবে আয়োজকরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এর মধ্যেই বুধবারের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে মিস জ্যামাইকা মঞ্চে পড়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বড় কোনো আঘাত পাননি বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব?

বিশ্লেষকদের মতে, এবারকার বিশৃঙ্খলার মূল কারণ থাই ও মেক্সিকান মালিকদের সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত পার্থক্য। একদিকে থাই আয়োজক নাওয়াত, যাঁর জোর সোশ্যাল মিডিয়া উত্তেজনা ও পণ্য বিক্রিতে; অন্যদিকে মেক্সিকোর ব্যবসায়ী রাউল রোচা আসল সংগঠনের নেতৃত্বে।

এর আগে থাই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অ্যান জাকরাজুতাতিপ প্রতিযোগিতার মালিক ছিলেন; তাঁর প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় মালিকানা বদলায়।

মিস ইউনিভার্সের ভবিষ্যৎ

১৯৫২ সাল থেকে শুরু হওয়া মিস ইউনিভার্সের এটি ৭৪তম আসর। টেলিভিশনের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় আয়োজনটি এখন বেশি নির্ভর করছে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে। লাতিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় আগ্রহ এখনও তুঙ্গে থাকলেও নারীর শরীর প্রদর্শনী ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

সংগঠনের সাবেক প্রেসিডেন্ট পলা শুগার্ট বলেন, “সবাইকে খুশি করা যাবে না। তবে নারীর ক্ষমতায়নই হওয়া উচিত এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।”


Previous articleসেনাকুঞ্জে ড. ইউনূস ও খালেদা জিয়ার কুশল বিনিময়
Next articleশেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে আবারও দিল্লিকে ‘নোট ভারবাল’ পাঠালো ঢাকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here