গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে সরকার অনুমোদন দিয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনী অধ্যাদেশে। এতে পলাতক আসামিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিল করা হয়েছে এবং প্রার্থীদের সম্পদ ও আয়ের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশ অনুমোদিত হয়। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, এসব সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে “আরও স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক” করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ইভিএম বাতিল, ব্যালটেই ভোট
আইন উপদেষ্টা বলেন, “আইনে থাকা ইভিএম সম্পর্কিত সব বিধান বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতের নির্বাচন হবে পুরোপুরি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে।”
সেনাবাহিনী অন্তর্ভুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে
নতুন সংজ্ঞায় এখন থেকে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আওতায় থাকবে, যাতে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্পষ্টতা আসে।
পলাতক আসামিদের নিষেধাজ্ঞা
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো পলাতক আসামি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। প্রতিটি জেলায় নির্বাচন অফিসার নিয়োগের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে।
সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক
প্রার্থীদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি-বিদেশি আয়ের উৎসসহ সব সম্পদের বিবরণ শপথনামার (এফিডেভিট) মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। আইন উপদেষ্টা জানান, “প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন, প্রার্থীদের সম্পদ ও আয়ের তথ্য প্রকাশ্যে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে, যাতে জনগণ জানতে পারে কে কোথা থেকে আয় করছে।”
জোট হলেও দলের প্রতীকে নির্বাচন
নতুন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, নির্বাচনী জোট হলেও প্রার্থীকে তার নিজ দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
‘না ভোট’ ফিরল
ভোটারদের জন্য ফিরিয়ে আনা হয়েছে ‘না ভোট’ ব্যবস্থা। একক প্রার্থী থাকলেও ভোটার চাইলে না ভোট দিতে পারবেন। যদি অধিকাংশ ভোটার না ভোট দেন, তাহলে সেই আসনে পুনরায় নির্বাচন হবে।
পোস্টাল ভোট ও জামানত
প্রবাসী ভোটার ও নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এবার ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন। মনোনয়ন জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
অনুদানে স্বচ্ছতা
রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনতে বলা হয়েছে—কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ৫০ হাজার টাকার বেশি অনুদান দিতে চাইলে তা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ও ট্যাক্স রিটার্নসহ দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি
কোনো এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম হলে কমিশন শুধু কেন্দ্র নয়, চাইলে পুরো আসনের ফল বাতিল করতে পারবে।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা চাই জনগণের আস্থা ফিরুক নির্বাচনের প্রতি। এই পরিবর্তনগুলো নির্বাচনী সংস্কৃতিকে আরও গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ করবে।”
চাইলে আমি এখন এটি প্রথম আলো ওয়েব ভার্সনের ডিজাইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিউজ ফরম্যাটে (লিড অংশ, ইনফোগ্রাফিক শিরোনাম, মূল টেক্সটের নিচে “আরও পড়ুন” ও “সম্পর্কিত খবর” সেকশনসহ) সাজিয়ে দিতে পারি। সেইভাবে বানাবো?






















































