দীর্ঘ অপেক্ষার পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে এসেছে জিম্বাবুয়ের হাসি। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে আফগানিস্তানকে ইনিংস ও ৭৩ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। দুই দিন বাকি থাকতেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচটি। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি ইনিংস ব্যবধানে তৃতীয় জয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় ক্রেইগ আরভিনের দল। টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় জিম্বাবুয়ে, আর সেই সিদ্ধান্তই হয়ে যায় ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। প্রথম ইনিংসে আফগানরা গুটিয়ে যায় মাত্র ১২৭ রানে।
জবাবে জিম্বাবুয়ে তোলে ৩৫৯ রান—ওপেনার বেন কারানের দুর্দান্ত শতকের (১২১) উপর ভর করে। এই ইনিংসেই তিনি জিতে নেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
দ্বিতীয় ইনিংসেও ভাঙতে পারেনি আফগানিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারা। ১৫৯ রানে শেষ হয় ইনিংস। কেবল ইব্রাহিম জাদরান (৪২) ও বাহির শাহ (৩২) কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। এবার জিম্বাবুয়ের হয়ে জ্বলে ওঠেন রিচার্ড এনগারাভা, ৫ উইকেট নিয়ে তুলে নেন নিজের প্রথম টেস্ট ‘ফাইভ–ফর’।
প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া ব্র্যাড ইভানস এবং এনগারাভার জুটি দুই ইনিংসেই ধসিয়ে দেন আফগান ব্যাটিং।
এই জয়ে টেস্ট ইতিহাসে ইনিংস ব্যবধানে তৃতীয় জয়ের স্বাদ পেল জিম্বাবুয়ে। ১৯৯৫ সালে পাকিস্তান ও ২০০১ সালে বাংলাদেশকে ইনিংসে হারানোর পর এটি তাদের নতুন মাইলফলক।
২০১৩ সালের পর হারারেতে টেস্ট জয়ের মুখ না দেখা দলটি ফিরল নিজেদের ঘরের মাঠের গৌরবে।
ক্যাপ্টেন ক্রেইগ আরভিন ম্যাচ শেষে বলেন,
“বছরটা টেস্টে কঠিন কেটেছে আমাদের জন্য। কিন্তু ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, তাতে আমি গর্বিত। ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিয়েছে, আর দুই ইনিংসেই বোলাররা ছিল অসাধারণ।”
আফগান অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শাহিদি বলেন,
“জিম্বাবুয়ে সত্যিই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে, আমরা তা পারিনি। শুরুর সেই ধসটাই আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে।”
তবে আফগান শিবিরে একমাত্র সান্ত্বনা নবাগত পেসার জিয়াউর রহমান, যিনি অভিষেকেই নিয়েছেন ৭ উইকেট।






















































