আগামী সপ্তাহেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে শরিয়াহভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন জমা দেবে আকিজ রিসোর্স। ব্যাংকটির প্রস্তাবিত নাম ‘মুনাফা ইসলামিক ডিজিটাল ব্যাংক’।
আকিজ রিসোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ জসিম উদ্দিন বলেন, “আমরা এমন একটি ইসলামিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই, যা অংশীদারিত্বভিত্তিক লাভ-বণ্টন, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে।”
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং অনেকে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২ নভেম্বর করেছে।
আগের সরকারের সময়ে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন ৫২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে, যার মধ্যে ‘নগদ’ ও ‘কড়ি’ অনুমোদন পেলেও অর্থায়ন জটিলতায় তাদের কার্যক্রম স্থগিত ছিল।
আকিজ রিসোর্সের প্রধান ব্যবসা উন্নয়ন কর্মকর্তা তৌফিক হাসান বলেন, “ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে দ্রুত পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে এটি আমাদের জন্য ব্যাংকিং খাতে প্রবেশের আদর্শ সময়।”
প্রধান ডিজিটাল ও উদ্ভাবনী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ কবির জানান, প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকিং ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। এতে গ্রাহকরা কোনো লেনদেন ফি ছাড়াই নির্বিঘ্ন আর্থিক সেবা পাবেন।
তিনি বলেন, “শক্তিশালী প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো আমাদের উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিককে আর্থিকভাবে ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।”
মুনাফা ডিজিটাল ব্যাংকের মূল লক্ষ্য
‘মুনাফা ইসলামিক ডিজিটাল ব্যাংক’ তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে—
১. নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, প্রবাসী বাংলাদেশি, তরুণ, নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজলভ্য ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা।
২. উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য মূল্যশৃঙ্খলাভিত্তিক অর্থায়ন মডেলের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো।
৩. “সবার জন্য শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং” স্লোগানকে সামনে রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক ইসলামিক ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
লাইসেন্স পেলে মুনাফা ডিজিটাল ব্যাংক ২০৩০ সালের মধ্যে ২ কোটি সক্রিয় অ্যাকাউন্ট এবং ৩৫ লাখ ডিজিটাল কনজিউমার ফাইন্যান্স গ্রাহক অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে।




















































