যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে দেশটিকে সীমিত ও নিম্নমাত্রার ইউরেনিয়াম নিজস্ব মাটিতে সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর কাছে প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এত দিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা ইরানকে এই অনুমতি দেওয়ার বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছিলেন।
হোয়াইট হাউজের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একাধিকবার বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে দেওয়া হবে না এবং তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি সরিয়ে ফেলতে হবে। তবে নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র পূর্বের অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছে।
ইরান বহুদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তারা শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির অধিকার ছাড়বে না। এই অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
অ্যাক্সিওস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুইটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব চুক্তির পথে সম্ভাব্য অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই প্রস্তাব কংগ্রেসে রিপাবলিকান মিত্র ও ইসরায়েল সরকারের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটররা চাইছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকে একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনা হোক এবং পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল করা হোক।
হোয়াইট হাউজ এই প্রস্তাব অস্বীকার না করলেও বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে নারাজ। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। বিশেষ দূত উইটকফ ইরানকে একটি সুপরিকল্পিত ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছেন। এটি গ্রহণ করাই ইরানের স্বার্থে।”
এই প্রস্তাবকে একটি “আলোচনার ভিত্তি” হিসেবে ধরা হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, ইরান নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারবে না, বিদ্যমান কিছু অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে এবং নতুন গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
চুক্তির আওতায় একটি আঞ্চলিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি কনসোর্টিয়াম গঠনের কথা বলা হয়েছে, যার নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি শুধু শান্তিপূর্ণ চাহিদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির মাত্রা ৩ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে, যার সময়সীমা আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্রগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অকার্যকর রাখতে হবে এবং আইএইএ’র নির্দেশনা অনুযায়ী ওপেন-এয়ার কেন্দ্রগুলোতে কেবল পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সীমিত কার্যক্রম চলবে।
প্রস্তাবে ‘দৃঢ় পর্যবেক্ষণ ও যাচাইব্যবস্থা’ গঠনের কথাও বলা হয়েছে, যাতে আইএইএ-র অতিরিক্ত প্রোটোকল অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। তবে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার সুবিধা পেতে হলে ‘বাস্তব প্রতিশ্রুতির’ প্রমাণ দিতে হবে।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই জানান, নিষেধাজ্ঞা কবে এবং কীভাবে শিথিল হবে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো পরিস্কার কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। তিনি বলেন, তেহরান প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।
এই প্রস্তাব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং তার উপদেষ্টাদের উদ্বিগ্ন করতে পারে। তাঁরা শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে আলোচনা ব্যাহত করতে পারে এমন কিছু না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তবে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য সামরিক হামলার পক্ষপাতী।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ব্যবস্থা নিতে পারেন।
নতুন এই প্রস্তাবে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির সঙ্গে অনেক সাদৃশ্য থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও রয়েছে। ট্রাম্প ২০১৮ সালে ওবামা প্রশাসনের সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
এদিকে, শিগগিরই ষষ্ঠ দফায় পারমাণবিক আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।






















































