পশ্চিম সুদানের দারফুর অঞ্চলে প্যারামিলিটারি র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) হাতে বেসামরিক মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। পালিয়ে আসা প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আরএসএফ যোদ্ধারা মানুষকে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা করছে, মুক্তিপণ আদায় করছে, এমনকি বন্দিদের পিষে হত্যা করছে।
আল–জাজিরা জানিয়েছে, উত্তর দারফুরের রাজধানী এল–ফাশের ছিল সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি। ১৮ মাসের অবরোধের পর গত রোববার শহরটি দখল করে আরএসএফ। এরপর থেকেই গণহত্যা, ধর্ষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়ছে।
তাওইলা শহরে পালিয়ে যাওয়া তরুণ আলখেইর ইসমাইল জানান, “রোববার আমরা প্রায় ৩০০ জন একসঙ্গে পালাচ্ছিলাম। আরএসএফ আমাদের আটকে ফেলে। পরিচিত একজন যোদ্ধা আমাকে চিনে ফেলায় আমি বেঁচে যাই, কিন্তু বাকিদের সবাইকে তারা হত্যা করে।”
তাহানি হাসান নামের এক নারী বলেন, “তিনজন আরএসএফ যোদ্ধা সামনে এসে গুলি ছোড়ে, চিৎকার করে থামতে বলে। তারা আমাদের মারধর করে, কাপড় খুলে ফেলে দেয়। এমনকি তারা আমাকেও তল্লাশি করে—যে ছেলেটা মারছিল, সে আমার মেয়ের থেকেও ছোট।”
আরেক নারী ফাতিমা আব্দুল রহিম জানান, নাতি–নাতনিদের নিয়ে পাঁচ দিন হেঁটে তাওইলায় পৌঁছাতে পেরেছেন। “তারা ছেলেদের পেটায়, আমাদের জিনিস নিয়ে যায়। পরে শুনেছি, আমাদের পরের দলে থাকা মেয়েদের ধর্ষণ করেছে,” বলেন তিনি।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, এল–ফাশের শহর থেকে ৬২ হাজার মানুষ পালিয়েছে। সেখানে আগে আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাস করত। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, মাত্র পাঁচ হাজার মানুষ তাওইলায় পৌঁছাতে পেরেছে, বাকিদের হত্যা করা হয়েছে বা আটকানো হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) বলছে, গত ২৯ অক্টোবর এল–ফাশেরের এক মাতৃসদন হাসপাতালে আরএসএফ অন্তত ৪৬০ জনকে হত্যা করেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, দারফুরের পরবর্তী যুদ্ধক্ষেত্র হতে পারে কর্ডোফান। সেখানে ইতিমধ্যে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
সুদানে চলমান এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ নিহত, প্রায় দেড় কোটি বাস্তুচ্যুত, এবং দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে।




















































