বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে চীন দেখিয়েছে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। এর মধ্যে ছিল ড্রোন প্রতিরোধী লেজার সিস্টেম এলওয়াই-১, যা যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করেই প্রদর্শন করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
৩ সেপ্টেম্বরের এই কুচকাওয়াজে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বার্তা ছিল স্পষ্ট—চীন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জুনিয়র পার্টনার নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক শক্তি, যে নিজের স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত।
ভারতের উপস্থিতি ও নতুন জোট
তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে ভারতের অংশগ্রহণ দেখিয়েছে—চীন নতুন মিত্র খুঁজছে, আর যুক্তরাষ্ট্র হারাচ্ছে পুরনো বন্ধুত্ব।
চীন বলছে, বড় শক্তির লক্ষ্য পূরণে তারা হস্তক্ষেপ করবে না, তবে নিজেদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হলে অবস্থান নেবে। ইউক্রেন ইস্যুতে যেমন দুর্বল ইউক্রেনকে সমঝোতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আর রাশিয়া-চীনের অবস্থান গুরুত্ব পেয়েছে।
ইতিহাস পুনর্লিখন ও অর্থনৈতিক কৌশল
চীন ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে আড়াল করে বলছে—জাপানের ওপর বিজয়ে মূল ভূমিকা ছিল রাশিয়া ও চীনের। একইসঙ্গে এসসিও ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের জন্য ১.৩ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে বেইজিং। বিশ্লেষকদের মতে, এ সহায়তার মূল্য পশ্চিমা সহায়তার চেয়েও বেশি হতে পারে।
এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণ
ভারতের সাবেক কূটনীতিক নিরুপমা রাও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ায় আর নির্ভরযোগ্য নয়। এতে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে নতুন এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠতে পারে, যা সরাসরি চীনের বিরুদ্ধেই কাজ করবে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ ও অস্থিরতা
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি-অস্পষ্টতা যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে। অনেক দেশ এখন চীনের দিকেই ঝুঁকছে, কারণ তাদের কাছে বেইজিংয়ের স্থিতিশীলতা তুলনামূলক বেশি আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।
চীন-ভারত সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা
চীন-ভারত সম্পর্ক বাণিজ্য, প্রতিবেশী দেশ ও সীমান্ত ইস্যুতে নতুন সুযোগ তৈরি করছে। যদি দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা বাড়ায়, তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে। তবে মূল বাধা রয়ে গেছে চীনের অভ্যন্তরীণ সংস্কার প্রয়োজনীয়তা—অদক্ষ কোম্পানিগুলো অবসায়ন করা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় প্রস্তুতি নেওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, তিয়ানআনমেন কুচকাওয়াজ শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়—এটি চীনের ঘোষণা, নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়তে বেইজিং এখন প্রস্তুত।






















































