ঢাকা, ২৭ মে ২০২৫: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ১৫ হাজার ৩৯৩ জন সরকার-নিয়ন্ত্রিত ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ৩৩৮ জন আহত ব্যক্তি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরকারের তত্ত্বাবধানে ৫১ জন আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২৮ জনকে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও তুরস্কে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই চিকিৎসা সেবায় সরকার ব্যয় করেছে ৬১ কোটি ২ লাখ টাকা ।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এসব তথ্য জানান।
আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের পরামর্শ সেবা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও নেপাল থেকে ২৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা হয়েছে, যারা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন ।
শহীদ পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তা:
- ৮৩৪ জন শহীদ পরিবারের মধ্যে ৬৩০টি পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৬৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট পরিবারের ওয়ারিশ নির্ধারণ সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্র প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
- আহতদের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৪৯৩ জনকে ২ লাখ টাকা করে, ‘বি’ ক্যাটাগরির ২০৮ জনকে ১ লাখ টাকা করে এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির ১০,৬৪২ জনকে এককালীন ১ লাখ টাকা করে চেক প্রদান করা হয়েছে।
এই সকল সহায়তা ও চিকিৎসা ব্যয়ে সরকার মোট ২৮৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
আগামী অর্থবছরে প্রতিটি শহীদ পরিবার আরও ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবে। ‘এ’ ক্যাটাগরির আহতরা অবশিষ্ট ৩ লাখ টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরির আহতরা অবশিষ্ট ২ লাখ টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির আহতরা মাসিক ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন ।
সরকারের এই উদ্যোগ আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।






















































