তবে যান চলাচলে বাধা বা জনদুর্ভোগ হলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আরও ‘উৎসবমুখর ও জনসম্পৃক্ত’ করতে ক্যারাভ্যান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচারণার অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এ ধরনের প্রচারণায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না এবং জনদুর্ভোগ বা জনশৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটানো যাবে না বলে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্তটি জানাতে বলা হয়েছে।
ইসির অফিসিয়াল নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণাকে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে যানবাহনের চারপাশে ডিজিটাল প্রযুক্তি কিংবা সাধারণ পচনশীল সামগ্রী ব্যবহার করে ক্যারাভ্যান পরিচালনা করা যাবে। তবে এসব কার্যক্রম নির্বাচন আচরণবিধি অনুসরণ করেই করতে হবে এবং তা কোনোভাবেই জনস্বার্থ বা আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী হতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে বাস্তবায়নের সময় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে জনভোগান্তির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় আইডি-ব্যয়ের হিসাব বাধ্যতামূলক
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন থেকে ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা পেজের তথ্য আগেভাগেই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। পাশাপাশি এ খাতে ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক গণমাধ্যমকে জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার ঠেকানো এবং নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ইতিমধ্যে সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর ১৬ নম্বর বিধি অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো যাবে। তবে প্রচারণা শুরুর আগে মাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ শনাক্তকরণ তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন, বুস্টিং ও স্পন্সরশিপের ব্যয়ও নির্বাচনী ব্যয়ের অংশ
এ ছাড়া বিধিমালার ২২ নম্বর বিধির (২) উপবিধি অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন, পোস্ট বুস্টিং বা স্পন্সরশিপে যে অর্থ ব্যয় হবে, তা প্রার্থীর সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাবও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
ইসি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, নিজ নিজ এলাকার প্রার্থীরা কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছেন—সে তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় পাঠাতে।























































