সাংবিধানিক আদেশ জারি করার এখতিয়ার সরকারের নেই: সালাহউদ্দিন

0
142

রাষ্ট্র আবেগের ওপর চলে না, আইনকানুনের মধ্য দিয়েই চলে—বিএনপি নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই জাতীয় সনদকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্র কোনো আবেগ বা ইমোশনের ওপর চলে না, রাষ্ট্র চলে আইন, বিধিবিধান ও নিয়মকানুনের মধ্য দিয়ে।”

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইউট্যাব আয়োজিত ‘২৪ জুলাই গণ–অভ্যুত্থান: তারুণ্যের ভাবনায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

‘প্রধান উপদেষ্টার সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই’

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন বলেন, “কেউ কেউ বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা এখন একটি আদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধানে প্রধান উপদেষ্টার এ ধরনের আইন বা আদেশ জারি করার অধিকার নেই।”

তিনি আরও বলেন, “যার জারি করার কথা, তিনি জারি করলেন না—যথাযথ কর্তৃপক্ষ জারি করল না। তাই ভবিষ্যতে যেন এ নিয়ে বিতর্ক না ওঠে, সেজন্য আমাদের রাজনৈতিক আবেগ থেকে সরে আসা উচিত।”

ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায়

গত ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হলেও কীভাবে তা বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সুপারিশ দেয়নি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কমিশন বুধবার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং বৃহস্পতিবারও পরামর্শ গ্রহণের কথা রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কমিশনের প্রাথমিক খসড়ায় বলা হয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে একটি আদেশ জারি করা হবে এবং সনদের অধীনে গণভোটের বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ আনা হবে।

এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমি শুনেছি কেউ কেউ বলছেন এটি ‘এক্সট্রা কনস্টিটিউশনাল অর্ডার’ আকারে জারি করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা সংবিধানের পরিপন্থী।”

‘সবচেয়ে দরকার মানসিক সংস্কার’

বিএনপির এই নেতা বলেন, “সবচেয়ে বেশি দরকার আমাদের মানসিক সংস্কার। আমরা ঐকমত্য কমিশনে আইনি ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে মানসিক পরিবর্তন না এলে আইনি সংস্কার বাস্তবে রূপ পাবে না। এটা মোদ্দাকথা।”

রাজনৈতিক অবস্থান

তিনি আরও বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল বলেছে, জনমতের চাপে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাবে একমত হয়েছে। অথচ গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব প্রথমে বিএনপিই দিয়েছিল।”

তার ভাষায়, “দুটি রাজনৈতিক দল ছাড়া বাকি সবাই এ প্রস্তাবে একমত হয়েছে। এক দল জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে, আরেক দল স্বাক্ষর করার সুযোগ খুঁজছে। তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলাপ চলছে, আশা করি যৌক্তিক সমাধান হবে।”

প্রসঙ্গ

গত ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উপস্থিত ছিল না।

Previous articleশরিয়াহভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংক ‘মুনাফা’ চালুর প্রস্তুতিতে আকিজ রিসোর্স
Next articleযুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে জনসমর্থন বেড়েছে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here