সাম্প্রদায়িক উসকানি আরও হতে পারে, প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ সিইসির

0
66

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসন ও পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সিইসি।

সম্প্রতি ময়মনসিংহে একজনকে পুড়িয়ে হত্যার নৃশংস ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে সিইসি বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের উসকানি আরও হতে পারে। তাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন ও পুলিশকে অনুরোধ করছি, এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সিইসি বলেন, দুর্গাপূজা ও নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্কের বিষয়টি তাঁদের নেতারা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা বলেছেন, দুর্গাপূজা এলেই হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এবারের পূজা খুব সুন্দরভাবে হয়েছে। আমি বলেছি, ইনশাআল্লাহ নির্বাচনও তেমনই হবে।’

সংখ্যালঘু ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত ও ভোট প্রদান নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে সিইসি বলেন, ‘তাঁরা যেন নিরাপদে কেন্দ্রে আসতে পারেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারেন এবং ভোট শেষে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন—এই পরিবেশ আপনাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য শোনার পর সিইসি বলেন, তাঁদের কথাবার্তায় তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আপনারা পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনোভাবেই পক্ষপাতদুষ্ট হওয়া যাবে না।’

আইনের শাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সিইসি বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কর্মকর্তারা যদি সাহসের সঙ্গে আইন প্রয়োগ করেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন তাঁদের পাশে থাকবে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘যুগসন্ধিক্ষণ’ আখ্যা দিয়ে সিইসি বলেন, এই সময় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জবাব দিতে হবে। নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার একটাই এজেন্ডা—জাতির জন্য কিছু করতে পেরেছি, এই সন্তুষ্টি নিয়ে মরতে চাই।’

সভায় নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন সিইসি। তিনি জানান, মানুষ অনেক সময় জানে না কোথায় অভিযোগ করতে হবে। এ জন্য রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের সামনে অভিযোগ জানানোর নম্বর টানিয়ে রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

এ ছাড়া ঢাকায় পোস্টার ও ব্যানার অপসারণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন সিইসি। কর্মকর্তাদের নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধি ভালোভাবে পড়ার এবং নিজেদের কাজ জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সভায় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।


Previous articleনির্বাচন আদৌ হবে কি না—এ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে: মির্জা ফখরুল
Next article১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান, তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here