ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আবারও ঘটেছে মর্মান্তিক এক ঘটনা। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডে সহায়তা নিতে আসা ক্ষুধার্ত মানুষের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অসহায় নারী-শিশু ও পুরুষদের লক্ষ্য করে চালানো হয় গুলি—নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে প্রতি ঘণ্টায়।
খাবারের জন্য জীবন ঝুঁকিতে
জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা অবরুদ্ধ করে রাখায় গাজায় মানবিক বিপর্যয় দিন দিন তীব্র হচ্ছে। কিছুদিন পরপর সীমিত পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী ঢুকলেও তা চাহিদার তুলনায় নিতান্তই সামান্য। ফলে প্রতিটি চালানে খাবার পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরে অপেক্ষা করছেন অসহায় মানুষ। কিন্তু এবার সেই লাইনেই ঝরল রক্ত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস এলাকায় খাদ্যবাহী ট্রাক ঢোকার সময়ই ইসরায়েলি স্নাইপাররা গুলি ছোঁড়ে। হতাহতদের বেশিরভাগই ছিলেন বয়স্ক এবং শিশু। চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেককে হাসপাতালে নেওয়াও সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নীরবতা
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, “এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। সহায়তা নিতে আসা মানুষদের গুলি করে হত্যা করা এক ধরনের যুদ্ধাপরাধ।”
তবে এখনো পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই হামলা বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীরবতা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীরা।
‘খাবারই যেখানে অস্ত্র, শান্তি কবে?’
স্থানীয় একজন নাগরিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা খাবারের জন্য বের হই, কিন্তু ফিরি লাশ হয়ে। একবেলা খাবার জোটাতে যদি প্রাণ দিতে হয়, তাহলে আমাদের জীবন আর কী মূল্য রাখে?”
শেষ কোথায় এই অনাহার ও অমানবতা?
বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনের জন্য মানবিক সহায়তার দাবিতে চলছে প্রতিবাদ, চলছে আবেদন। কিন্তু রাজনৈতিক কূটনীতির জটিলতা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক শক্তির দ্বৈত নীতির কারণে গাজার মানুষের জন্য দিন দিন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই হয়ে উঠছে বড় চ্যালেঞ্জ।
শেষ প্রশ্ন একটাই—খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে যদি গুলিতে মরতে হয়, তাহলে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার কোথায়?























































