রপ্তানি কমে ও আমদানি বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারে

0
98

নিজস্ব প্রতিবেদক

-এর প্রকাশিত ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আমদানি বেড়ে যাওয়া এবং রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩.৮০ বিলিয়ন ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১১.৭৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব এখনো এই পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়নি।

অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই–জানুয়ারি সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ২৬.৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমে দাঁড়িয়েছে ২৬.০৯ বিলিয়ন ডলারে।

অন্যদিকে একই সময়ে আমদানি ব্যয় ৩৮.১১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৯.৮৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

বলেন, বাণিজ্য প্রবাহের পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই ঘাটতি বাড়ছে। তার ভাষায়, “আমদানি বাড়া ও রপ্তানি কমার কারণেই বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে।”

রেমিট্যান্সে ভর করে কমেছে চলতি হিসাবের ঘাটতি

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও একই সময়ে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৮১ মিলিয়ন ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে চলতি হিসাবের ঘাটতি কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই–জানুয়ারি সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯.৪৩ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৫.৯৬ বিলিয়ন ডলার।

জাহিদ হোসেন বলেন, “বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ চলতি হিসাবের ঘাটতি কমিয়ে এনেছে।”

চলতি হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট একটি দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে পণ্য ও সেবার নিট বাণিজ্য, বিদেশ থেকে আয় এবং রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন চলতি লেনদেন অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত

২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের আর্থিক হিসাবে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্ত ছিল মাত্র ৩৩১ মিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ট্রেড ক্রেডিট পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদেশি সহায়তার নিট প্রবাহ বৃদ্ধির কারণেই এই উন্নতি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই–জানুয়ারি সময়ে ট্রেড ক্রেডিটে ১.০৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে এখানে ১.২৯ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি ছিল।

ট্রেড ক্রেডিট বলতে বোঝায়—কোনো পণ্য বা সেবা এখন গ্রহণ করা হলেও তার মূল্য পরবর্তীতে পরিশোধ করা। এটি ব্যালান্স অব পেমেন্টে স্বল্পমেয়াদি মূলধন প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সার্বিক লেনদেনে উন্নতি

একই সময়ে দেশের সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যেও উন্নতি হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যে ২.২৮ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ১.২২ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি ছিল।

জাহিদ হোসেন বলেন, “প্রথম সাত মাসে সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। রপ্তানি কমা ও আমদানি বাড়ার পরও রেমিট্যান্স শক্তিশালী থাকায় চলতি হিসাবের ঘাটতি কমেছে।”

তবে চলমান ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ইতোমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের দাম প্রায় ৭০ পয়সা বেড়ে ১২৩ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১২২.৩০ টাকা।

জাহিদ হোসেন বলেন, মার্চ মাস থেকে যুদ্ধের প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে। এতে লেনদেনের ভারসাম্যের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা ও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।

Previous articleজনগণকে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি: প্রধানমন্ত্রী
Next article৫ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here