জনগণকে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি: প্রধানমন্ত্রী

0
73

বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ তার সরকার শুরু করেছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সরকারি সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক বৈষম্য দূর করে আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো। জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এখন সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছি। পর্যায়ক্রমে এই কার্ড সারা দেশের মানুষ পাবেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে চালু হচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’। এছাড়া আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে শুরু হচ্ছে ‘খাল খনন কর্মসূচি’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু হলো। যাদের প্রয়োজন, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যেককে এই সহায়তা দেওয়া হবে।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ তথা প্রত্যেক নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নাগরিকদের কিছু দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদেরও রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি কিছু দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, তাহলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র মানুষের জীবনে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পারে, তবে ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সংহতি, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব, বিনয়, দায়িত্ববোধ কিংবা দয়ার মতো মানবিক গুণাবলি অর্জন ছাড়া একজন মানুষ প্রকৃত অর্থে মানবিক হয়ে উঠতে পারে না। এসব গুণ অর্জনের জন্য ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়া জরুরি।

অনুষ্ঠানে ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মহিবুল্লাহি বাকি এবং শায়েখে চরমোনাই ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বক্তব্য রাখেন।

Previous articleনোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী
Next articleরপ্তানি কমে ও আমদানি বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here