নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তিতে ‘ফোর্স মাজ্যুর’ ঘোষণা করায় বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, চলতি বছরের নির্ধারিত ১১৫টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে ৪০টি সরবরাহের কথা ছিল কাতারএনার্জির। ২ মার্চ চুক্তির ধারা অনুযায়ী সম্ভাব্য ‘ফোর্স মাজ্যুর’ পরিস্থিতির কথা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পেট্রোবাংলাকে চিঠি দেয়। এতে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আরফানুল হক বলেন, চিঠি পাওয়ার পরপরই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। মার্চ মাসে সরবরাহ নিশ্চিত করতে অন্তত চারটি স্পট কার্গো সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ১৫ ও ১৮ মার্চ ডেলিভারির জন্য কোটেশন আহ্বান করা হয়েছে।
বর্তমানে মার্চে সাতটি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি কাতার থেকে আসার কথা ছিল। চারটি নিশ্চিত হলেও দুটি এখনো অনিশ্চিত বলে জানা গেছে।
কর্মকর্তারা জানান, কাতারের সরবরাহে প্রভাব পড়লে কাতারনির্ভর অন্যান্য ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের চালানেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে স্পট কার্গোর ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।
সংঘাত শুরুর আগে এশীয় স্পট এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ৯ ডলারের নিচে ছিল। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর তা বেড়ে ১৩ ডলারের বেশি হয়েছে। দাম আরও বাড়লে জ্বালানি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খল নাজুক হয়ে পড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যাহত হলে স্পট মার্কেট থেকেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে হবে।
এপ্রিল মাসের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পেট্রোবাংলা ইতোমধ্যে সব সরবরাহকারীর কাছে অবস্থান স্পষ্ট করতে চিঠি দিয়েছে। সময়মতো নিশ্চয়তা না পেলে গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে উচ্চমূল্যে অতিরিক্ত স্পট কার্গো সংগ্রহ করতে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



















































