বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ দেশের অর্থনীতির জন্য জরুরি নয়। ওয়াশিংটনে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, সমঝোতা না হলেও দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিকভাবে চলবে।
তিনি বলেন, “আইএমএফের ব্যালান্স অব পেমেন্ট সহায়তা মূলত একটি অতিরিক্ত সুবিধা। এটি না পেলেও আমাদের কোনো বড় সমস্যা হবে না। আমাদের রিজার্ভ স্থিতিশীল এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে, যেখানে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৮.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া রপ্তানি আয় দ্বিগুণ বৃদ্ধির পথে রয়েছে। ফলে চলতি হিসাবের ঘাটতি প্রায় শূন্যে পৌঁছেছে।”
সংস্কারের গুরুত্ব
গভর্নর মনসুর বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত আর্থিক খাত ও বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের সংস্কার। আইএমএফ কেবল সহায়ক ভূমিকা রাখবে। যদি মনে করি, এই ঋণ সহায়ক নয়, তাহলে তা নেব না। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্ত মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের মতো পরিস্থিতিতে নেই। ছয় মাস আগের তুলনায় আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন অনেক ভালো।”
অতীতের অর্থ পাচার প্রসঙ্গ
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রায় ২৪-২৫ বিলিয়ন ডলার পাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যদি কিছু ঋণ পাইও, তা কয়েক বিলিয়নের বেশি হবে না। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্থনৈতিক খাতের সংস্কার। প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত করা।”
আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার অবস্থা
তিনি বলেন, “আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয় হলো আর্থিক খাত ও রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার। মুদ্রা বিনিময় হার নিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, তবে বাজার এখন স্থিতিশীল এবং ডলার বিক্রি করার প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের আলোচনা কঠোর দরকষাকষির মতো নয়, বরং এটি নীতিনির্ধারণমূলক সংলাপ। আমরা আশা করছি, শিগগিরই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।”
বাজেট সহায়তা ঋণের বিষয়ে মতামত
গভর্নর মনসুর বলেন, “বাজেট সহায়তা ঋণ বিনিয়োগের পরিবর্তে সরকারের দৈনন্দিন খরচ চালাতে ব্যবহৃত হয়। এটি ভবিষ্যতে কোনো মূল্য তৈরি করে না। এখন থেকে আমাদের এই ধরনের ঋণ নেওয়া উচিত নয়।”
আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি
উল্লেখ্য, আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির অধীনে ২৩১ কোটি ডলার ইতিমধ্যেই ছাড় হয়েছে এবং বাকি ২৩৯ কোটি ডলার পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে গভর্নর মনসুর মনে করেন, এই ঋণ পাওয়া বাজারভিত্তিক ডলার বিনিময় হার চালু করার ওপর নির্ভর করছে।






















































