প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সব কার্যক্রমে নিরপেক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস উপস্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি পরিবারের ইতিহাস নয়—এটি পুরো জাতির সংগ্রাম। ইতিহাসকে বিকৃত করে কোনো কৃতজ্ঞ জাতি গড়া যায় না।”
সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
🔹 বিভ্রান্তিকর ইতিহাস, অবকাঠামোর সমালোচনা
বৈঠকে উপদেষ্টা ফারুক ই আজম মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পসমূহের তীব্র সমালোচনা করে বলেন,
“কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ও অবকাঠামোগুলোতে রণাঙ্গনের বিস্তৃত ইতিহাস নেই, নেই সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বর্ণনা। বরং কিছু পরিবারের ছবি-সরঞ্জাম দেখিয়ে অতিরঞ্জিত উপস্থাপনা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের নামে একটি গবেষণা প্রকল্পে ২৩ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, অথচ প্রকৃত গবেষণার ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ।
🔹 দলীয়করণ, রাজনীতি ও সম্পদের অপব্যবহার
ফারুক ই আজম বলেন,
“পূর্ববর্তী সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের দলীয়করণ করেছে। বরাদ্দকৃত সম্পত্তি ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থে। এমনকি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পত্তিতেও দলীয় রাজনীতি হয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টা এই ট্রাস্টের সম্পত্তিগুলোর কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেছেন,
“এই ট্রাস্টকে পুনর্জীবিত করতে হবে। কী ধরনের উদ্যোগ সেখানে নেওয়া যায়, কী কী এন্টারপ্রাইজ হতে পারে, সেসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
🔹 পরামর্শক নিয়োগ ও কমিটি গঠনের নির্দেশ
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পত্তির সদ্ব্যবহার ও ট্রাস্টের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্রুত একজন পরামর্শক নিয়োগ এবং পরবর্তী একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন,
“এই ট্রাস্ট শুধু স্মৃতির জাদুঘর নয়, এটি হতে পারে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের জীবন্ত নিদর্শন—যেখানে ইতিহাস থাকবে, কর্মসংস্থান থাকবে এবং প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় বার্তা থাকবে।”






















































