আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশে অতীতের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়ন যেন আর না ঘটে— সে বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক।
বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারকে তিনি “জবাবদিহির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশে গুমের ঘটনায় এই প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।”
গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দুটি মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গৃহীত হয়। এতে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক এবং র্যাবের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা।
শনিবার সেনাবাহিনী জানায়, তারা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ‘হেফাজতে’ নিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে গত সরকারের সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ভলকার টুর্ক বলেন, “সেনাবাহিনীর স্বতঃস্ফূর্তভাবে আটক এই কর্মকর্তাদের দ্রুত একটি উপযুক্ত বেসামরিক আদালতে উপস্থাপন করা জরুরি। ন্যায়বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভিকটিম ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যেন এসব সংবেদনশীল মামলায় কোনো প্রকার ভীতি বা প্রভাব কাজ না করে।”
হাইকমিশনার মনে করিয়ে দেন, গত বছর ছাত্রদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভ চলাকালে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুপারিশ করেছিল জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান মিশন।
তিনি বলেন, “প্রতিটি মামলার ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি ও নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি। কিছু ক্ষেত্রে আগের প্রশাসনের আমলে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতেও পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “গুম থেকে ফিরে আসা ও মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত অনেক ব্যক্তি— যাদের মধ্যে বিগত সরকারের সমর্থক ও সাংবাদিকরাও আছেন— এখনও কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার মুখোমুখি।”
হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেন, “ব্যক্তিগত জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছাড়াও বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার সর্বোত্তম পথ হলো সত্য প্রকাশ, ক্ষতিপূরণ, নিরাময় ও ন্যায়বিচারের সমন্বিত প্রক্রিয়া।”
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানান, “বর্তমান উদ্বেগগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড অনুযায়ী মোকাবিলা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনও এমন মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়ন না ঘটে।”





















































