তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছিল— এমন দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বুধবার ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনা তিনজনের সঙ্গে আলাপচারিতায় আন্দোলনকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোন ব্যবহারের নির্দেশ দেন এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর নির্দেশও দেন।
তাজুল বলেন, “হাসানুল হক ইনুকে তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন যে নারায়ণগঞ্জে হেলিকপ্টার থেকে ছত্রীসেনা নামানো হবে, ওপর থেকে বোমা ফেলা হবে, প্যারাট্রুপার নামানো হবে।”
প্রসিকিউশন জানায়, শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এই নির্দেশনার প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “কথোপকথনের অডিও প্রমাণ হিসেবে আদালতে শোনানো হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে কণ্ঠটি শেখ হাসিনারই। বিবিসির নিজস্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষায়ও প্রমাণিত হয়েছে যে এটি এআই-সৃষ্ট নয়।”
তিনি আরও জানান, পুলিশ বাহিনীর তৎকালীন প্রধান আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন— শেখ হাসিনার নির্দেশেই প্রাণঘাতী অস্ত্র ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে যায়।
তাজুল বলেন, “কীভাবে হুকুম দেওয়া থেকে মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর হয়েছে, কীভাবে গুলিতে মানুষ মারা গেছে, কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে— সব তথ্য-প্রমাণ আমরা আদালতে তুলে ধরেছি।”
প্রসিকিউশনের দাবি, শেখ হাসিনার নির্দেশের চেইন অব কমান্ড ও তার পরিণতি ‘ওয়াইডস্প্রেড’ ও ‘সিস্টেমেটিক’ভাবে প্রমাণিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় পড়ে।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছ থেকে হেলিকপ্টার ফ্লাইটের চার্টার, পাইলটদের নাম, ডিউরেশন, অস্ত্রের ধরন ও গুলির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আগামীকাল বৃহস্পতিবারও এই মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক চলবে।























































