আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আসেন সুশীলা কার্কি।
গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই সহিংসতায় প্রাণ হারান অন্তত ৩৪ জন, আহত হন এক হাজারের বেশি। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পরে অলি পদত্যাগ করলে সহিংসতা থামে।
রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পোড়েল ও সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগডেল সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্কির নাম প্রস্তাব করেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের সংগঠন, যাদের ‘জেন-জি’ বলা হচ্ছে, তারাও কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানায়।
আজ (শনিবার) সকালে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তার নিয়োগের ঘোষণা আসবে।
কে এই সুশীলা কার্কি?
সুশীলা কার্কি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি। তিনি ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার জন্য তিনি পরিচিতি পান। দায়িত্বকালে তিনি তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী জয়প্রকাশ প্রসাদ গুপ্তকে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন।
কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া সুশীলা সাত ভাইবোনের বড়। ১৯৭২ সালে মহেন্দ্র মরাং ক্যাম্পাস থেকে বিএ, ১৯৭৫ সালে বারাণসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ এবং ১৯৭৮ সালে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৭ সালে দায়িত্বকালের শেষ দিকে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তখন নেপালি কংগ্রেস ও সিপিএন (মাওইস্ট সেন্টার)-এর সংসদ সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট রায়ের অভিযোগ এনে অভিশংসনের প্রস্তাব আনেন।






















































