সরকার পাল্টালেও দুর্নীতি, দুর্বল বিনিয়োগ ও মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির পিছু ছাড়ছে না—এমন মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।
গতকাল রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে নতুন বিনিয়োগ আসছে না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ নেমে এসেছে জিডিপির ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ অভিযোগ করেন, এনবিআরের হয়রানি বেড়েছে, রাজস্ব আদায়ে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, ‘এনবিআর এখন অর্থনীতির ক্যানসারে পরিণত হয়েছে।’
তবে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মঞ্জুর হোসেন দাবি করেন, অর্থনীতি এখন স্থিতিশীল। তাঁর মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমেছে। তবে চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।
সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি কমলেও পণ্যের দাম এখনো উঁচু। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।’ তিনি রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ ও কর আদায় বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
বিআইডিএস মহাপরিচালক এ কে এনামুল হকের মতে, অর্থনীতি এখন ‘মন্দের ভালো’ অবস্থায় আছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার বিকল্প নেই। তাঁর ভাষায়, ‘এনবিআরের মূল কাজ করদাতা বাড়ানো, কিন্তু তারা হয়রানিতে বেশি ব্যস্ত।’
বাংলাদেশ ব্যাংক ও এডিবির প্রতিনিধিরাও সেমিনারে অংশ নেন। তাঁরা মুদ্রানীতি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা নিয়ে নানা সুপারিশ করেন।






















































