চট্টগ্রামের তিনটি বন্দর প্রকল্পে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার (৩ বিলিয়ন ডলার) বিদেশি বিনিয়োগ হতে যাচ্ছে। এসব প্রকল্পে বন্দর নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি খাতে পর্যায়ক্রমে এই বিনিয়োগ করা হবে। আজ (৮ মে) চট্টগ্রাম বন্দরের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এ তথ্য জানান।
প্রকল্প ও বিনিয়োগের বিবরণ
লালদিয়ার চরে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ৬০ থেকে ৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। সাগর উপকূলে বে টার্মিনালে সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল এবং আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড ১০০ কোটি ডলার করে মোট ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে দুটি টার্মিনাল নির্মাণ করবে। এছাড়া নিউমুরিং টার্মিনালেও বিদেশি বিনিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।
বন্দর সুবিধা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা
আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনের কেন্দ্র করতে হলে বন্দর সুবিধা উন্নত করা অপরিহার্য। বিদেশি বিনিয়োগ এ ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়াবে, তবে দেশীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বে টার্মিনালের সম্ভাবনা
বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ২০৩১ সালে বে টার্মিনাল চালু হলে ২৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি, এটি থেকে সরাসরি ইউরোপ ও আমেরিকায় কনটেইনার পরিবহন সম্ভব হবে, যা বর্তমানে সিঙ্গাপুর বা কলম্বোর মতো বন্দর হয়ে করতে হয়।
ব্যবসায়ীদের মতামত
হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন উদ্যোক্তারা।
- কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
- বিএসআরএম গ্রুপের আমের আলীহুসাইন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ঢাকার বাইরে বিস্তৃত করার প্রস্তাব দেন।
- পিএইচপি ফ্যামিলির সুফি মিজানুর রহমান দেশীয় উদ্যোক্তাদের অবদানের প্রশংসা করে তাদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান।
ফ্রি ট্রেড জোনের পরিকল্পনা
আশিক চৌধুরী জানান, চট্টগ্রামে একটি ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। বিমানবন্দর ও বন্দর সুবিধা কাজে লাগিয়ে এটি বাস্তবায়িত হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়
মতবিনিময় সভা শেষে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আশিক চৌধুরী। তিনি বলেন, গ্যাস সংকট সমাধানে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন প্রকল্পগুলো সফল হলে অন্যান্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাফল্যও নিশ্চিত হবে।





















































