কুয়েটে অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা, পদত্যাগে সন্তুষ্টি

0
208

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ৫৮ ঘণ্টার আমরণ অনশন শেষ হয়েছে। উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদ ও সহ-উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা তাঁদের আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

আন্দোলনের মূলধারা ও সমাধান প্রক্রিয়া

  1. দাবি পূরণের বার্তা:
    • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জানান যে উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
    • জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের মধ্যে থেকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
  2. উল্লাস ও আনন্দমিছিল:
    • ঘোষণার পরপরই শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে ওঠেন।
    • ‘কুয়েট ১৯’ ফেসবুক পেজে বিজয়ের বার্তা দিয়ে পোস্ট করা হয়।
  3. সমর্থন ও আপত্তি:
    • শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ায় ক্যাম্পাসে শান্তি ফিরে আসলেও কিছু শিক্ষক উপাচার্যের পদত্যাগে আপত্তি জানান।
    • শিক্ষক সমিতি চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে উপাচার্য অপসারণ মেনে নেবে না বলে জানায়।
  4. সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত:
    • সাময়িক বহিষ্কৃত ৩৭ শিক্ষার্থীর আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
    • ৬টি ছাত্র হল ও ১টি ছাত্রী হল খুলে দেওয়া হয়।
    • ক্লাস শুরুর তারিখ হিসেবে ৪ মে নির্ধারণ করা হয়েছে।

আন্দোলনের পটভূমি

গত ফেব্রুয়ারিতে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে সংঘর্ষে শতাধিক আহত হওয়ার পর থেকে কুয়েট উত্তপ্ত ছিল। একাধিক ঘটনায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট হন। অবশেষে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে, যার চূড়ান্ত পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনে বসেন।

পরবর্তী করণীয়

  • প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে কুয়েট প্রশাসন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কার্যকর সমঝোতা কাঠামো গঠন প্রয়োজন।
  • শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে দ্রুত সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

শিক্ষার্থীদের এ বিজয় প্রশাসনের প্রতি আস্থাহীনতার একটি দৃষ্টান্ত হলেও, এটি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো করে তুলেছে।

Previous articleভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা: পাল্টা পদক্ষেপে কঠোর অবস্থান নিল পাকিস্তান
Next articleমোবাইল রোমিং বিল এখন ডলারের বদলে টাকায় পরিশোধযোগ্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here