বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একটা রাজনৈতিক ট্যাগ থাকেই: ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

0
222

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ওপর রাজনৈতিক ট্যাগ লাগানো একটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এটি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য স্বাস্থ্যকর নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (তারিখ দিন) রাজধানীর একটি সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

“একটা মত থাকলেই ট্যাগ দেওয়া হয়”

ড. মাহমুদ বলেন, “কোনো শিক্ষক সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক বিষয়ে মত প্রকাশ করলেই, তা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বলে ধরে নেওয়া হয়। অথচ এটি হতে পারে একজন শিক্ষকের ব্যক্তি-চিন্তা বা পেশাগত মূল্যায়নের অংশ।”

তিনি আরও বলেন, “এই ট্যাগ দেওয়ার প্রবণতা গবেষণা, মুক্তচিন্তা ও শিক্ষা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে।”

শিক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে ড. মাহমুদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় মানেই হচ্ছে মুক্তবুদ্ধি চর্চার জায়গা। সেখানে শিক্ষকরা যদি তাদের মত প্রকাশে আত্ম censored অনুভব করেন, তবে সেটি শিক্ষার মান ও স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

রাজনীতি শিক্ষাঙ্গনে থাকবে, তবে…

তিনি স্বীকার করেন যে, “শিক্ষকদের রাজনৈতিক মত থাকতে পারে এবং সেটি তাদের নাগরিক অধিকার। তবে সেটি যেন পেশাগত নিরপেক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভেদ তৈরির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।”

প্রেক্ষাপট

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও বিভিন্ন শিক্ষকদের মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে।


বিশ্লেষণ:
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের এই মন্তব্য উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। শিক্ষক সমাজকে যেন রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত না করে বরং তাদের জ্ঞানচর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়—এই বার্তাই যেন উঠে আসে তার বক্তব্য থেকে।

Previous articleইরানের ফর্দো পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা সক্ষম মার্কিন বি-২ বোমারু মোতায়েন: আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন
Next articleগেজেট জারির মাধ্যমে বাজেট পাস হচ্ছে আগামীকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here