মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ২০টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এসব হামলার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা । এরপর থেকে ইরান পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। ইরানি সূত্রগুলো বলছে, দেশটিতে হামলায় নিহতের সংখ্যা ১,২০০ ছাড়িয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের বিমানবাহিনী ইরানের ৩০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। ইরান কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ , যার মাধ্যমে বিশ্বে ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে।
মার্কিন তেলের মানদণ্ড এর দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এর দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৪ ডলারে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ২০ হাজার মার্কিন নাগরিক দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার নাবিক ও ১৫ হাজার জাহাজযাত্রী আটকে পড়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। যুক্তরাজ্য কাতারে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে, আর ইতালি ও অস্ট্রেলিয়াও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তায় সহায়তার কথা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল বড় ধরনের যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে।



















































