আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ডা. তাহের বলেন, ‘গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করবে। আর গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে—সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে, নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু হবে, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা কেমন হবে—এসব মৌলিক প্রশ্ন।’
তিনি জানান, জামায়াত নভেম্বরের শেষ দিকে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। এরপর আড়াই মাস সময় রেখে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছে দলটি।
নির্বাচন কমিশন, সচিবালয় ও পুলিশ প্রশাসনের অধিকাংশ কর্মকর্তা ‘একটি দলের প্রভাবাধীন’ বলে দাবি করে তাহের বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছি। তিনি জানিয়েছেন, রদবদলে লটারির মাধ্যমে পোস্টিং ঠিক করবেন—এতে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি।’
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, কিছু উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টাকে বিভ্রান্ত করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি—আপনার প্রতি আমাদের আস্থা আছে, কিন্তু আপনার আশপাশে থাকা কিছু উপদেষ্টা একটি দলের পক্ষে কাজ করছেন। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।’
এদিন বিকেলে জামায়াতের শীর্ষ চার নেতা—সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার, এ টি এম মা’ছুম ও রফিকুল ইসলাম খান—যমুনায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন।
‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তাহের বলেন, ‘সনদে ইতিমধ্যে স্বাক্ষর হয়েছে। এখন এটি আইনি ভিত্তি দিতে হবে। আমরা চাই, সনদের যেসব অংশ আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো আগে বাস্তবায়ন করা হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হবে এবং সেই আদেশের মাধ্যমেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এটি সংবিধানের বাইরে একটি অতিরিক্ত ব্যবস্থা, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।’
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বৈঠক করেছে। জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর এর বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় আলোচনার এই ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।























































