কাশ্মীরের সাম্প্রতিক হামলার জেরে ভারত পাঁচটি পদক্ষেপ নেওয়ার পর, পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি (এনএসসি) পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পাকিস্তানের পাল্টা সিদ্ধান্তসমূহ
- সিন্ধু পানি চুক্তি রক্ষায় হুঁশিয়ারি:
- পাকিস্তান ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
- চুক্তি ভঙ্গ বা পাকিস্তানের পানিপ্রবাহে বাধা দেওয়া যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে উল্লেখ করেছে।
- জাতীয় স্বার্থে পানি রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের অঙ্গীকার করেছে।
- দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্থগিত:
- পাকিস্তান ঘোষণা করেছে যে, ভারতের সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্থগিত রাখার অধিকার প্রয়োগ করবে।
- এতে সিমলা চুক্তি থেকে শুরু করে অন্যান্য চুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- ওয়াগা সীমান্ত বন্ধ:
- ভারত থেকে আসা এবং ভারতে যাওয়া সব চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
- ৩০ এপ্রিলের পর এ সীমান্ত দিয়ে ফিরে যাওয়ার সুযোগও বন্ধ করা হবে।
- ভারতীয় নাগরিকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা:
- পাকিস্তানে থাকা ভারতীয়দের সার্ক ভিসা বাতিল।
- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান ছাড়ার নির্দেশ।
- শিখ ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়।
- ভারতীয় কূটনীতিকদের সীমাবদ্ধতা:
- ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনে নিযুক্ত প্রতিরক্ষা, নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা।
- ভারতীয় হাইকমিশনে কর্মকর্তার সংখ্যা ৩০ জনে নামিয়ে আনার নির্দেশ।
- আকাশসীমা ও বাণিজ্য:
- ভারতের সব বিমান পরিবহন সংস্থার জন্য আকাশসীমা বন্ধ।
- ভারতের সঙ্গে সরাসরি ও তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত।
পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল
ভারতের কাশ্মীরে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামের গোষ্ঠীর হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই উত্তেজনা শুরু হয়। পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে নামতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক পরিবেশের জন্য হুমকি হতে পারে।





















































