ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবেরকে আগামী ১২ জানুয়ারি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটের বিষয়ে কোনো আপত্তি আছে কি না, তা জানতেই আদালত এ নির্দেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ গত ৬ জানুয়ারি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরদিন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম চার্জশিটটি দেখলাম মর্মে স্বাক্ষর করেন। এরপরই বাদীকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ জারি করা হয়।
চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট–এ–কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলসহ অন্যরা। অপরদিকে প্রধান আসামিসহ ছয়জন এখনো পলাতক।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ওসমান হাদি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা–কর্মীদের শত্রুতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা, ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা এবং প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোবল ভাঙতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েক দিন আগে থেকেই ওসমান হাদির নির্বাচনী প্রচারণায় অনুপ্রবেশ করেন আসামিরা। ঘটনার দিন মতিঝিল থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম শেষে ফেরার পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে এসে চলন্ত অটোরিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যান তাঁরা।
ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে তাঁকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।























































