নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার, সন্ধ্যা
বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা জেনেছি, বিভিন্ন দল প্রশাসনে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিচ্ছে। বড় দলগুলো এসপি-ডিসি পদগুলো ভাগ করে নিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।’
তিনি জানান, নিরপেক্ষ সরকারের জন্য এনসিপি প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানিয়েছে—যাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ কমিশনের প্রয়োজন উল্লেখ করে নাহিদ প্রশ্ন তোলেন, ‘জনপ্রশাসনে যে পদায়ন হচ্ছে, তা কীসের ভিত্তিতে? নিরপেক্ষতা, নাকি দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে?’
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের আদালতে হাজির করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা ন্যায়বিচারের পথে একটি অগ্রগতি। আমরা সরকার ও ট্রাইব্যুনালকে ধন্যবাদ জানাই।’
জুলাই গণহত্যায় নিহত ও আহত পরিবারের নিরাপত্তা এবং বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানান নাহিদ। তিনি বলেন, ‘শহীদ ও আহত পরিবারের মামলাগুলোতে আসামিরা জামিনে ছাড়া পাচ্ছেন, আবার হুমকি দিচ্ছেন। নির্বাচনের আগেই বিচার প্রক্রিয়ার একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত।’
জুলাই সনদে এনসিপির স্বাক্ষর না করার কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ বলেন, ‘আমরা শুধু কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নই। জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই আমরা স্বাক্ষর করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে একটি সাংবিধানিক আদেশ জারি করতে হবে, যা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস জারি করবেন। কারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈধ সার্বভৌম ক্ষমতা কেবল তিনিই ধারণ করেন—এ ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই।’
এদিন বিকেল পাঁচটায় এনসিপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে দলে ছিলেন সারজিস আলম, সামান্তা শারমিন ও খালেদ সাইফুল্লাহ।
বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ছয়টায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধি দল যমুনায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রসঙ্গত, ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর দলগুলোর অবস্থানগত ভিন্নতা দেখা দিলে প্রধান উপদেষ্টা একের পর এক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।























































