অর্থনীতি ডেস্ক | ১৮ জুন ২০২৫
দেশে স্থিতিশীল রিজার্ভ এবং বিনিময় হারের সুবাদে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল—এই তিন মাসে বেসরকারি খাতে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৪৫৪ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময় দেশের বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০.২৫ বিলিয়ন ডলার, যা জানুয়ারি শেষে ছিল ৯.৮ বিলিয়ন।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলার ঋণের সুদহার টাকার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এবং রিজার্ভ ও বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় উদ্যোক্তারা আবার বিদেশি ঋণ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন।
কেন বাড়ছে ঋণ?
পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, “ইউপিএএস এলসি ও বাইয়ার্স ক্রেডিট নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। কারণ ডলারে ঋণের সুদ ৮ শতাংশের মধ্যে থাকলেও দেশে টাকায় ঋণের সুদ প্রায় ১৩ শতাংশ, ফলে প্রায় ৫ শতাংশের একটি সুদের সুবিধা পাওয়া যায়।”
তিনি আরও জানান, অর্থনীতির সামগ্রিক সূচক উন্নতির দিকে যাচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কমে এসেছে, এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ছে, যার ফলে বিদেশি ব্যাংকগুলো আবার আগ্রহ দেখাচ্ছে।
ঋণের ধরণ ও পরিমাণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বাইয়ার্স ক্রেডিট সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। জানুয়ারিতে যেখানে এ ঋণ ছিল ৫.০৮ বিলিয়ন ডলার, এপ্রিল শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৫.৫৩ বিলিয়ন ডলার—অর্থাৎ তিন মাসে বেড়েছে প্রায় ৪৪৩ মিলিয়ন ডলার।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে যেখানে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৯.২ বিলিয়ন ডলার, তা ২০২২ সালের শেষে দাঁড়ায় ১৬.৪২ বিলিয়নে। তবে ২০২৩ সালে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ঋণ পরিশোধ শুরু হলে ঋণের পরিমাণ কমে আসে। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ঋণগ্রহণ আবার বাড়তে শুরু করে।
আস্থা ফিরছে বিদেশি ব্যাংকের
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে আরও দেখা গেছে, গত এক বছর ধরে বিপিএম৬ মানদণ্ডে রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে, যা বিদেশি ঋণদাতাদের আস্থা ফেরাতে সহায়ক হয়েছে।
২০২৫ সালের এপ্রিল শেষে ডেফারড পেমেন্ট আউটস্ট্যান্ডিং দাঁড়িয়েছে ৬২২ মিলিয়ন ডলার, যা জানুয়ারিতে ছিল ৬৪৪ মিলিয়ন।
ঋণ অনুমোদনের হালচিত্র
গত ২১ মে অনুষ্ঠিত স্ক্রটিনি কমিটির সভায় ২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি নতুন ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ৯৮৮ মিলিয়ন ডলার পুনর্গঠন ও ৩১৫ মিলিয়নের ভূতাপেক্ষ অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।






















































