যুদ্ধবিরতির পর ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে চীন

0
213

🔻 তেল বিনিময়ে ক্ষেপণাস্ত্র! তেহরানের প্রতিরক্ষা জোরদারে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন ও তেলআবিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (Surface-to-Air Missiles) সংগ্রহ করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একাধিক আরব গোয়েন্দা সূত্র।

🔺 যুদ্ধবিরতির ঠিক পরেই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ শুরু

একজন আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২৪ জুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ শুরু হয়।
আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্ররা ওয়াশিংটনকে অবহিত করেছে। তবে হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

💰 তেলের বিনিময়ে ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি

সূত্র অনুযায়ী, ইরান তাদের তেল সরবরাহের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করছে।
চীন বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা—যেখানে ৯০ শতাংশ ইরানি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয় চীনে, এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (EIA) প্রতিবেদনে।

চীন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে মালয়েশিয়াকে ট্রানশিপমেন্ট হাব হিসেবে ব্যবহার করে এই তেল আমদানি করে আসছে।

🛰️ ইরানের প্রতিরক্ষা পুনর্গঠন ও প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চ প্যাড, গবেষণা কেন্দ্র এবং সামরিক ঘাঁটি দ্রুত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সংগ্রহ করেছে তেহরান।

ইরান এর আগেও রাশিয়ার এস-৩০০, চীনের HQ-9 ও HQ-16, এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি বাভার-৩৭৩খোরদাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনায় নির্ভর করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব সিস্টেম সীমিতভাবে হলেও ইসরায়েলের এফ-৩৫ স্টেলথ জেট প্রতিরোধে সক্ষম।

🧭 চীন-ইরান সামরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সামরিক সরবরাহ চীন-ইরান কৌশলগত জোটের এক নতুন মাত্রা
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও চীনের সহযোগিতায় নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়ে যাচ্ছে।

চীনের তৈরি HQ-9 মিসাইল ইতোমধ্যেই পাকিস্তান, মিসর, আলজেরিয়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

📍 আগাম সতর্কবার্তা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই ইস্যুতে আজই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


📌 প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ:
এই উন্নয়ন মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানের প্রতিরক্ষা জোরদার এখন কেবল নিজস্ব নিরাপত্তা নয়—বরং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Previous articleজুলাই যোদ্ধাদের জন্য ২৫ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক
Next articleশ্রীলঙ্কার কাছে বিধ্বস্ত হয়ে ওয়ানডে সিরিজও হারল বাংলাদেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here