মিরপুরের টার্নিং উইকেটে একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। স্পিনের ফাঁদে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখলেও শেষে সেই ফাঁদেই ধরা খেল বাংলাদেশ। রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে সুপার ওভারে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মঙ্গলবার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে দুই দলই সমান ২১৩ রান করে। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে, যেখানে মোস্তাফিজুর রহমানের করা ছয় বলে ১০ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা। বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ১১, কিন্তু ৯ বল খেলেও করতে পারে মাত্র ৯ রান।
অধিনায়ক শেই হোপই ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ত্রাতা। মূল ম্যাচে ৫৩ রানে অপরাজিত থেকে দলকে টেনে নিয়ে যান তিনি, আর সুপার ওভারে করেন দলীয় ১০ রানের মধ্যে ৭ রান। ঠান্ডা মাথায় ব্যাটিং, নিখুঁত নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন হোপই।
বাংলাদেশের ইনিংস শুরু থেকেই ধীরগতির। ওপেনার সাইফ হাসান ১৪ বল খেলে রানশূন্য, ১৫তম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলেই আউট। ইনিংসের প্রথম ৫০ আসে ১২তম ওভারে, আর শতক আসে ৩০তম ওভারে। সৌম্য সরকার করেন সর্বোচ্চ ৪৫ রান, এরপর কেউই বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। শেষদিকে রিশাদ হোসেনের ঝোড়ো ১৪ বলে ৩৯ রানে লড়াই টিকে থাকে কিছুটা, তবে সেটি যথেষ্ট হয়নি।
বল হাতে দারুণ শুরু করেন নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন। দ্বিতীয় ওভারেই ফেরান ব্র্যান্ডন কিংকে, এরপর পরপর আউট হয় আথানাজে ও কার্টি। একপর্যায়ে ১৪১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু হাল ধরেন অধিনায়ক হোপ। একপ্রান্ত আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত দলকে নিয়ে যান সমতায়।
শেষ ওভারে ৫ রান দরকার ছিল অতিথিদের। সাইফ হাসানের করা ওভারের শেষ বলে তিন রান প্রয়োজন ছিল। পিরে বলটা তুলে মারেন আকাশে, কিন্তু উইকেটকিপার সোহান ধরতে পারেননি ক্যাচ। সেই এক ভুলেই ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
এই ম্যাচে তৈরি হয় নতুন ইতিহাসও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনো পেসার ছাড়াই সম্পূর্ণ ৫০ ওভার স্পিনে বল করেছে—ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথম। এর আগে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৪ ওভার স্পিন বোলিংয়ের রেকর্ড ছিল শ্রীলঙ্কার দখলে।






















































