নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ১ জুলাই ২০২৫
জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র প্রকাশ ছাড়া সরকার কিংবা অন্তর্বর্তী প্রশাসনের পক্ষে “জুলাই উদযাপন” করার কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ শিরোনামের এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, “জুলাই উদযাপন কেবল প্রতীকী অনুষ্ঠান হতে পারে না; এটি হতে হবে একটি ঐতিহাসিক ও সংবিধানিক রূপান্তরের ঘোষণা।”
🔹 ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও ‘সনদ’ কী?
নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র হবে “জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শহীদ ও আহতদের অবদান এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও আকাঙ্ক্ষা সংজ্ঞায়নের একটি জাতীয় দলিল”, যা ভবিষ্যতে আইনি ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে।
অন্যদিকে জুলাই সনদ হবে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা। তিনি বলেন, “এই সনদে সংবিধানের কোন কোন অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আসবে, তার রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি লিখিত দলিল থাকবে। এর বাস্তবায়ন গণভোট, গণপরিষদ অথবা সংসদীয় পদ্ধতিতে করা যেতে পারে।”
🔹 সরকার ব্যর্থ, ঐক্যমতের সুযোগও নষ্ট
নাহিদ ইসলাম জানান, গত ডিসেম্বরে ছাত্রনেতারা একটি ঘোষণাপত্র দিতে চাইলেও সরকারের অনুরোধে তারা তা স্থগিত করে। সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সম্মিলিত দলিল প্রকাশ করবে। কিন্তু দুই দফা সময় দিয়েও সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
“সরকার খসড়া চেয়েছিল, আমরাও দিয়েছিলাম। তারপরও কেন ঘোষণা এলো না, তা কেউ জানে না,”— বলেন নাহিদ।
🔹 বিকল্প পথে প্রস্তুতি
সরকার উদাসীন থাকলে কী হবে—সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা বসে থাকব না। নিজেদের পক্ষ থেকে ইশতেহার প্রকাশ করব এবং অন্যান্য পক্ষকেও উৎসাহিত করব। সকলে মিলে একটি যৌথ দলিল তৈরি করতে পারলে সরকারকে তা গ্রহণ করতে বাধ্য করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঘোষণাপত্র শহীদ পরিবারগুলোর পক্ষ থেকেই পাঠ করা হবে, যেন সেটি নৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব পায়।”
🔹 সময়সীমা: ৫ আগস্টের মধ্যে ঘোষণার আহ্বান
নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, “আমরা চাই ৫ আগস্ট বা ৩৬শে জুলাইয়ের মধ্যে ঘোষণাপত্র ও সনদ উভয়ই প্রকাশিত হোক। কোনো পক্ষ দলীয় স্বার্থে ঐক্য ব্যাহত করলে, সরকারকে অবশ্যই সাধারণ জনগণ ও আগ্রহী পক্ষদের নিয়ে দায়িত্ব নিতে হবে।”
📌 উল্লেখযোগ্য বক্তব্যসমূহ:
- “জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র ছাড়া উদযাপন প্রতারণা।”
- “জুলাই সনদ হবে রাজনৈতিক সংস্কারের মৌলিক দলিল।”
- “প্রতিটি পক্ষকে ছাড় দিয়ে সরকারের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে সহায়তা করতে হবে।”
📍 প্রেক্ষাপট:
গত বছর জুলাই মাসে ছাত্র ও তরুণদের গণঅভ্যুত্থানের সূত্র ধরে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো এই পরিবর্তনের মৌলিক দলিল ও রূপরেখা প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে।






















































