নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ৩০ জুন ২০২৫
নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক, শ্রম অধিকার, গণতন্ত্র ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, এই ফোনালাপে দুই পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার বিষয়ে সম্মত হন।
অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নিয়ে গুরুত্বারোপ
ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসার অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ড. ইউনূসের অবদানের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
শ্রম অধিকার ও সুশাসনের প্রসঙ্গ
আলোচনায় বাংলাদেশের শ্রম অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সুশাসন বিষয়ে উদ্বেগের কথাও উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলে আসছে যে, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত না হলে জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স (জিএসপি)-এর মতো বাণিজ্য সুবিধা পুনরায় চালু করা কঠিন হবে।
ড. ইউনূস এসময় জানান, শ্রমিক অধিকার সুরক্ষায় বেসরকারি খাতের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নীতিরও আধুনিকায়ন প্রয়োজন।
ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা
ফোনালাপে দুই পক্ষই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সমুদ্রপথের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হন। ব্লিঙ্কেন এসময় বলেন, “বাংলাদেশ এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যার ভূরাজনৈতিক অবস্থান ইন্দো-প্যাসিফিক স্থিতিশীলতার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আইনি পরিস্থিতি
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান মামলার প্রসঙ্গও আলোচনায় আসে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ড. ইউনূস ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি কর ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের মুখে রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাংশ তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।






















































