জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সারাদেশব্যাপী শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের বৃহত্তর স্বার্থ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ তারেক রিকাবদার।
আজ রবিবার (৩০ জুন) রাতে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সংকটের শুরু
এর আগে গতকাল শনিবার থেকে ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন এনবিআর কর্মকর্তারা। রাজস্ব ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার ও এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ একাধিক দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেয় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
শাটডাউনের ফলে সারাদেশে রাজস্ব সংক্রান্ত কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দেয়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েন।
সরকারের হুঁশিয়ারি ও পদক্ষেপ
আজ দুপুরে এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআর কর্মকর্তাদের ‘আইনবিরোধী ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড’ থেকে সরে আসার আহ্বান জানায়। বলা হয়, অনতিবিলম্বে সবাইকে কর্মস্থলে ফিরে যেতে হবে, অন্যথায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
পরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের সভাপতিত্বে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
আলোচনার আহ্বান ও প্রত্যাহার ঘোষণা
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর সংস্কার পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা রাজস্ব ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারের দাবি থেকে সরে আসেনি। তবে দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তারা অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এনবিআরের অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির দাবিকে অগ্রাহ্য করা যাবে না। তবে তা অবশ্যই আইনগত প্রক্রিয়া ও সংলাপের মাধ্যমে হওয়া উচিত। রাজস্ব আদায়ে ব্যাঘাত দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে রপ্তানি-নির্ভর খাতে।























































