যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্কযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী জার্মান কোম্পানিগুলো

0
135

যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্কযুদ্ধের ফলে উদ্ভূত বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী জার্মান কোম্পানিগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার।

জার্মান প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর

জার্মানির উচ্চপর্যায়ের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছে। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজে বের করা। প্রতিনিধিদলে ছিলেন জার্মান পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, রপ্তানি ঋণ সংস্থার কর্মকর্তা, এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সদস্যরা।

তারা ঢাকায় ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫’-এ অংশ নেন এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ-জার্মানি বাণিজ্যিক সম্পর্ক

২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

  • বাংলাদেশের রপ্তানি: মূলত তৈরি পোশাক।
  • জার্মানির রপ্তানি: যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য, বৈদ্যুতিক সামগ্রী।

সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

জার্মান ব্যবসায়ী থমাস ক্যানিং বলেছেন, চীনের বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়।

  • কর্মীশক্তি: ১১ কোটি ৪০ লাখ কর্মী, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে।
  • বৈচিত্র্য: তৈরি পোশাক ছাড়াও ভোক্তা পণ্য, ইলেকট্রনিকস, এবং শিল্প উপাদান উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়।

শুল্ক-উত্তেজনা ও বাংলাদেশের ভূমিকা

মার্কিন শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ জার্মান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের দিকে আকৃষ্ট করেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা এটিকে “এক প্রজন্মে একবার আসে এমন সুযোগ” বলে মনে করছেন।

বিনিয়োগের পথে বাধা

বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশে বড় বাধাগুলো হলো:

  • বিদ্যুৎ-সংকট
  • অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা
  • প্রশাসনিক দুর্নীতি

তবে জার্মান বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারবে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজন

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা সৃষ্টি করছে। বিনিয়োগকারীরা স্থিতিশীল সরকার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য একটি স্পষ্ট নীতিমালা প্রত্যাশা করছেন।

জার্মান এশিয়া-প্যাসিফিক বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের আলমুট র্যোসনার বলেছেন, “বাংলাদেশের সংস্কার নীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।”

Previous articleমিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের প্রয়োজন: বাংলাদেশের অবস্থান
Next articleজিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রোপার উইকেটে খেলার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here