জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, “৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ যেভাবে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করত, এখনও তাই করছে। এটা আমাদের ব্যর্থতা।”
শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির হল রুমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজিত জুলাই সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
হাসনাত অভিযোগ করেন, আইন উপদেষ্টার ব্যর্থতার কারণেই দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল এখনো গঠন হয়নি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা ছিল। মে মাস চলে গেলেও কেন তা হয়নি? যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তারা কোন কোর্টে যায়? কাদের মদদে এসব জামিন মেলে?”
আইন উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যদি আপনার কাজে কেউ বাধা দেয়, তাহলে সেটা জাতির সামনে তুলে ধরুন। আপনার নীরবতায় আমরা হতাশ।”
তিনি আরও বলেন, “খুনিদের বিচার করা এই সরকারের সংস্কারের প্রধান বিষয় হওয়া উচিত। আমরা বিচার এবং সংস্কার দেখতে চাই। বিচারহীন সংস্কারের কোনো মানে হয় না।”
নির্বাচন কমিশনের সংস্কার নিয়ে জোর দিয়ে হাসনাত বলেন, “আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, ফেরারি আসামিরা যদি নির্বাচন করতে চায়, তবে তাদের সশরীরে এসে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা জানতে চাই, তারা কাদের স্বার্থ রক্ষা করছে?”
তিনি অভিযোগ করেন, “আমরা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পেরেছি, কিন্তু তাদের অর্থের উৎস অক্ষত রয়ে গেছে। এমনকি বিএনপির রাজনীতিও এখন আওয়ামী লীগের টাকায় চলে।”
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাকে শত্রু ভাববেন না। আমি এসব কথা আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি।”
আওয়ামী লীগের সহযোগী ১৪ দলের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট বক্তব্য চান তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, “আমরা সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু এখনো বিচার পাইনি, আহতদের পুনর্বাসন হয়নি, কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়নি। আমরা রাস্তায় নেমে না এলে কোনো পদক্ষেপই দেখা যায় না। আমাদের অনুরোধ, এসব ধোঁয়াশা কাটিয়ে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করুন।”























































