বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকার নীতিনির্ধারকরা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ৩.৩ শতাংশ, যা গত ৩৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বিশ্বব্যাংকের পূর্ববর্তী ৪.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস থেকে এহেন পতন বিনিয়োগ হ্রাস, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ফলে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দারিদ্র্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক সংকট
বিশ্বব্যাংকের ‘ম্যাক্রো পোভার্টি আউটলুক’ অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে, যারা দৈনিক ২.১৫ ডলারের নিচে আয় করে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কর্মসংস্থান হ্রাস বিশেষত নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে:
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে প্রায় ৪ শতাংশ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।
- স্বল্প দক্ষ কর্মীদের মজুরি ২ শতাংশ এবং উচ্চ দক্ষদের মজুরি ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
- চরম দারিদ্র্যের হার ৭.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
বৈষম্যের বিস্তার
দেশে আয় বৈষম্য আরও বাড়ছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। জিনি সূচকের প্রায় ১ পয়েন্ট বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে ৫টির মধ্যে ৩টি পরিবার তাদের সঞ্চয় ভেঙে খরচ চালাতে বাধ্য হবে।
রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাব
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতির অনিশ্চয়তা এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা স্থিতিশীল এবং ব্যালান্স অব পেমেন্ট ঘাটতি হ্রাস পাওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের করণীয়
সিপিডি’র অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, “উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এটি কমানোই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”
তিনি আরও যোগ করেন:
- বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে পরিবহন ও ব্যবসা খাতের উন্নতি প্রয়োজন।
- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
আগামী বাজেট ঘোষণার আগে আর্থিক নীতিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।





















































