সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামীকাল সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এ ঘোষণা দেন। ভাষণে তিনি দেশবাসীকে শান্ত ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং এ শোকের দিনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশ ও জাতির জন্য অবদানের কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে জাতি চিরকাল স্মরণ করবে। তিনি এই মৃত্যুকে জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
হাসপাতালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের স্ত্রী শার্মিলা রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দারসহ পরিবারের সদস্যরা। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তাঁর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও সেখানে ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, আগামীকাল ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। জানাজার পর সংসদ ভবন এলাকার পাশে জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হতে পারে।
কারামুক্তির পর গুলশানের বাসভবনে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তিনি যকৃত, কিডনি ও হৃদ্যন্ত্রের জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে।
১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা, কারাবাস ও পুনরুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দুই মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।























































