সাড়ে ৫ বছর পর হামের টিকা ক্যাম্পেইন, ঝুঁকিতে শিশুরা

0
47

ঢাকা, সোমবার

দেশে টানা সাড়ে পাঁচ বছর ধরে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী । এতে বর্তমানে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে এবং তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় সংসদে এক জরুরি নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর পরপর এই ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। পাশাপাশি টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় পূর্বের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুতেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথম দিনের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজার শিশুর বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে বাকি এলাকায় এই কর্মসূচি চালু করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে অতিরিক্ত ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পাশাপাশি স্বল্প খরচে অক্সিজেন সরবরাহের নতুন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন সংসদ সদস্য । তার অভিযোগ, কাগজে বরাদ্দ থাকলেও সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে আইসোলেশন বা আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছে না।

এর জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, টিকার ঘাটতি কাটাতে ইউনিসেফের মাধ্যমে অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সংকট এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

Previous articleকম দামে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন
Next articleপ্রথম একনেক সভা মাঝপথে মুলতবি, ৫ প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ৪৮৩ কোটি টাকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here