সংবাদদাতা: কলকাতা
প্রকাশ: ১ জুলাই ২০২৫, ১৭:৩২
ভারতের মণিপুর রাজ্যের চূড়াচাঁদপুর জেলায় কুকি জনগোষ্ঠীর চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩০ জুন) এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও একজন নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
মণিপুর পুলিশের মতে, এই হত্যাকাণ্ড দুই কুকি বিদ্রোহী সংগঠনের—কুকি ন্যাশনাল আর্মি (KNA) এবং ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি (UKNA)—অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল। কুকি ন্যাশনাল আর্মির উপপ্রধান থেনখোথাং হাওকিপ, ও সংগঠনের দুই সদস্য সেইখোগিন এবং লেঙ্গোহাওকে সোমবার গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে পাওয়া যায় তাঁদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ।
সঙ্গে থাকা ৭২ বছর বয়সী ফলহিং নামে এক নারীর দেহও উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি কোনো সংগঠনের সদস্য নন এবং গুলির সময় এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদ্রোহী সংঘর্ষের পটভূমি
২০০৭-০৮ সালে ভারত সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তিতে আসে কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন, যার সদস্য KNA। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন UKNA সেই চুক্তিতে না গিয়ে সরাসরি বিরোধিতা করে। তাদের অভিযোগ, সরকার-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো তাদের নেতা ও কর্মীদের টার্গেট করে আসছে। নিহত থেনখোথাং হাওকিপের বিরুদ্ধে UKNA-র বেশ কয়েকজন সদস্য হত্যার অভিযোগ ছিল।
ইউ-কেএনএ এক বিবৃতিতে হাওকিপ ও তার দুই সহযোগীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
সহিংসতার শঙ্কা বাড়ছে
মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। গত দুই বছরে এই সহিংসতায় ২৫০ জনের বেশি নিহত এবং ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশেষ করে চূড়াচাঁদপুর জেলাটি বারবার সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনায় রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে এবং সহিংসতা যাতে আরও না বাড়ে, সে লক্ষ্যে চূড়াচাঁদপুরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।
মণিপুরে দুই কুকি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, এমনটি বলছে পুলিশ। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।




















































