ভারত থেকে পুশ ইন ঠেকানো সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

0
230

ভারত থেকে পুশ-ইন ঠেকানো সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) ঘটনা বাস্তবিক অর্থে ফিজিক্যালি ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে এ ধরনের ঘটনা যাতে নিয়ম অনুযায়ী হয়, সে জন্য কনস্যুলার সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, ভারতকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি ।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারত থেকে পুশ-ইন হচ্ছে। সেটা ফিজিক্যালি (সীমান্তে বাধা দিয়ে) ঠেকানো সম্ভব নয়। এটা নিয়ে ভারতের সঙ্গে চিঠি আদান–প্রদান হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি, এটি যাতে পদ্ধতি অনুযায়ী হয়। তারা কিছু ক্ষেত্রে বলেছে, অনেক কেস (বিষয়) আটকে রয়েছে, সেগুলো ঠিকমতো বাংলাদেশ করছে না। যাচাই করে দেখেছি, খুব দীর্ঘদিনের তালিকা রয়েছে। পাশাপাশি এটাও দেখেছি যে ভারতের তালিকা অনুযায়ী যাচাই করে অনেককে ফেরত নেওয়া হয়েছে। কাজেই দুপক্ষের বক্তব্য থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, কনস্যুলার সংলাপ ব্যবহার করে বিষয়গুলোকে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি কি না– আমরা সে চেষ্টা করছি। নিয়মিত পদ্ধতিতে যাতে হয়, তার জন্য বাংলাদেশ আরেকটি চিঠি দেবে ভারতকে। তারা যে তালিকা দিয়েছে, তা যাচাই করে যাদের বাংলাদেশি পেয়েছি, তাদের ফেরত নিয়েছি।

প্রতিবাদ পত্র নাকি কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হবে? উত্তরে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা একটি বস্তুনিষ্ঠ চিঠি পাঠাবো। যেটাতে পদ্ধতির কথা উল্লেখ করবো। কনস্যুলার সংলাপ ব্যবহারের চেষ্টা করবো। অনেক দিন এ সংলাপ হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত মাসের শুরুতে ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইন শুরুর পর দেশটিকে বেশ কয়েকবার চিঠি দিয়ে তা বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তৌহিদ হোসেন বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে পাঠানো চিঠি নিয়ে ভারত থেকে ফিরতি কিছু আসেনি। আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে অবশ্যই দ্বিতীয় চিঠি দেওয়া হবে।

সীমান্তে বেসামরিক নাগরিক হত্যার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নমনীয় হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বিষয়ে নমনীয়তা দেখানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আমরা প্রতিবাদ করছি এবং এ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। অবশ্যই সীমান্ত হত্যা নিয়ে খুব শক্ত ভাষায় প্রতিবাদ করব। সীমান্ত হত্যাকে কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা পৃথিবীর আর কোনো সীমান্তে নেই।’

ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমার তো মনে হয় যেটা দেখতে পেয়েছে সেটা হলো এতে (বাংলাদেশের জন্য ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল) শাপে বর হয়েছে। তাদের (ভারতের) ওপর নির্ভরশীলতা কমে গেছে। আমাদের কোন রপ্তানি কিন্তু তাতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। দিল্লির পরিবর্তে একটা প্রক্রিয়া দাঁড়িয়ে গেছে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে। ফ্রেইট যাচ্ছে এবং কোন সমস্যা হচ্ছে না। এটা একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে আমরা কেনো সবকিছুর জন্য অন্য দেশ থেকে ট্রানজিট করতে হবে! যেহেতু এখান থেকে সরাসরি যেতে পারে.. সরাসরি ফ্লাইট যাচ্ছে এখন। স্পেনে এখান থেকে সরাসরি ফ্লাইট যাচ্ছে, ফ্রেইট ফ্লাইট। এতে যে আমাদের খুব জন্য খারাপ হয়েছে তা তো বলতে পারি না। ভালোই হয়েছে।

ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলের পর ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরাও তো প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের একটা সুবিধা বাতিল করেছি। আমরা তাদের থেকে সুতা আমদানি বন্ধ করেছি। সেটা আমাদের প্রয়োজন ছিল বলেই করেছি। এখন তারা যেটা করেছে সেটা তারা তাদের প্রয়োজনের জন্য করেছে কি না আমি জানি না।’

সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের ভিসা বন্ধ বা কমিয়ে দেওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘যে সিদ্ধান্তগুলো আমাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়, তার অনেকখানির জন্য আমরা দায়ী। আমরা, আমাদের দেশের মানুষ, আমাদের ব্যবসায়ীরা দায়ী। বিশেষ করে যাঁরা শ্রমশক্তি রপ্তানি করেন।’ তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় তো বাংলাদেশের প্রতি কোনো বিরূপ মনোভাব নেই। আমাদের ঘর সামলাতে হবে এ ক্ষেত্রে।’

Previous article২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে দেশের ব্যবসায়ী মহলে স্পষ্ট অসন্তোষ
Next articleকোহলির আইপিএল স্বপ্নপূরণ: পাঞ্জাবকে হারিয়ে বেঙ্গালুরুর প্রথম শিরোপা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here