হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কোটি টাকার পণ্য ও কাঁচামাল পুড়ে গেছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন ওই এলাকায় আগুন লাগে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটের সঙ্গে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরাও যোগ দেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল।
বিজিএমইএর সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, “এই ঘটনায় দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগবে। বহু ব্যয়বহুল মালামাল, জরুরি চালান ও পণ্যের নমুনা পুড়ে গেছে। এসব নমুনা নতুন ক্রেতা পেতে সহায়তা করত—এগুলো নষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতের অর্ডারও ঝুঁকিতে পড়েছে।”
তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে বিজিএমইএ তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে এবং এ জন্য একটি অনলাইন পোর্টালও খোলা হয়েছে।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—বছরের এই সময়ে কার্গো ভিলেজটি সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে। প্রতিদিন প্রায় ১,২০০ মেট্রিক টন পণ্য ওঠানামা করে এবং ২০০ থেকে ২৫০টি কারখানা এখান দিয়ে উড়োজাহাজে পণ্য পাঠায়। ফলে আগুনের কারণে আর্থিক ক্ষতি ব্যাপক হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত মঙ্গলবার ঢাকায় একটি রাসায়নিক কারখানায় আগুনে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায়ও একটি কারখানায় আগুন লাগে। ছয় দিনের ব্যবধানে এটি দেশে তৃতীয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।
বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, আর বছরে আয় হয় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার—যা দেশের মোট জিডিপির এক-দশমাংশেরও বেশি।
আগুনের ঘটনায় রপ্তানি কার্যক্রমে দেরি হবে এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে শিল্পখাত।



















































